কয়লা পাচার মামলায় রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, কলকাতা-সহ ৯ জায়গায় একযোগে তল্লাশি

কয়লা পাচার মামলায় রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, কলকাতা-সহ ৯ জায়গায় একযোগে তল্লাশি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য -রাজ্যে ফের সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের অন্তত ৯টি জায়গায় একযোগে অভিযান শুরু করেছে ইডি। কয়লা পাচার চক্রের বিরুদ্ধে চলা তদন্তকে আরও এগিয়ে নিতেই ভোররাতে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুধু বাংলা নয়, ইডির একটি দল একইসঙ্গে দিল্লির কয়েকটি জায়গাতেও পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেছে।
ভোরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ইডি আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি দল পশ্চিম বর্ধমানের নবগ্রাম এলাকায় পৌঁছয়। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড এলাকায় কয়লার বেআইনি উত্তোলন ও সেই কয়লা পাচার সংক্রান্ত সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুর, পাণ্ডবেশ্বর-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চলছে।
ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসে চালানো একাধিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া নথি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়লা পাচার মামলায় কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম সামনে এসেছে। তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই দুর্নীতিতে যুক্ত বলে তদন্তকারীদের ধারণা। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
দুর্গাপুরে বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বিলাসবহুল বাড়িতেও মঙ্গলবার সকালে পৌঁছন ইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘদিন ধরেই বালির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রবীর দত্ত আগে পানাগড়ে থাকতেন। প্রায় দু’বছর আগে তিনি নতুন বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। সূত্রের দাবি, সম্প্রতি তিনি দুবাই সফরেও গিয়েছিলেন।
সকালবেলা এই বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে কিছুটা উত্তেজনাও তৈরি হয়। অভিযোগ, প্রথমে ইডি আধিকারিকদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় বাড়ির দরজা খুলে তল্লাশি শুরু করা হয়। প্রবীর দত্তের সঙ্গে আর কারা এই চক্রে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি তাঁর ভাইয়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়লা পাচার মামলায় কিছুদিন আগেই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। অভিযানের দিন আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। পরে তাঁকে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসতেও দেখা যায়।
সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, আইপ্যাকের কাছে দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি, প্রার্থীদের তালিকা ও হার্ডডিস্ক রয়েছে এবং সেগুলি হাতিয়ে নিতেই ইডির দল পাঠানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। পাল্টা মামলাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি রয়েছে। তার ঠিক আগের দিন কয়লা পাচার মামলায় ইডির এই অভিযান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top