রাজ্য – রাজ্যজুড়ে এসআইআর (West Bengal SIR) ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার গোটা দেশের নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে। শীর্ষ আদালতে আজ রাজ্যের দায়ের করা এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে। এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজেই সওয়াল করতে পারেন—এই সম্ভাবনাকে ঘিরে সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
এর আগেই প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেই সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে যুক্তি দেবেন। জাতীয় রাজনীতিতে এমন ঘটনা নজিরবিহীন হলেও, বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর কটাক্ষ, ভোটে হারার পর কিছু একটা করতেই হবে বলেই এই উদ্যোগ।
এসআইআর শুনানির দিন মুখ্যমন্ত্রী আইনজীবীদের মতো কালো রোব পরে আদালতে হাজির হতে পারেন—এই সম্ভাবনার কথা প্রথমে প্রকাশ করেছিল ‘দ্য ওয়াল’। শেষ পর্যন্ত তা হয় কি না, সে দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর এই কাজই করতে হতে পারে ভেবেই হয়তো এখন থেকেই প্র্যাকটিস শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রাক্তন বিজেপি সভাপতির আরও ব্যঙ্গ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসঙ্গে বহু পরিচয়ে পরিচিত—কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক। তবে এখন তিনি ধরে নিয়েছেন এপ্রিলের পর সরকার আর থাকবে না, তাই বিকল্প পথ খুঁজতেই ফাইল হাতে সুপ্রিম কোর্টে যাতায়াত শুরু করেছেন।
এসআইআর ইস্যুতে দিল্লি সফরের সময় জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকও বিতর্কে জড়িয়েছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) এবং এসআইআর আবহে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সদস্য। বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আলোচনা ইতিবাচক তো হয়ইনি, বরং তাঁকে হুমকি ও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
এই অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বৈঠকে সত্যিই যদি খারাপ আচরণ হয়ে থাকে, তা হলে দেড় ঘণ্টা সেখানে বসে থাকা কেন? তাঁর কটাক্ষ, ক’কাপ চা খাওয়া হয়েছে, সেটাও স্পষ্ট করা উচিত। সত্যিই অসহযোগিতা হলে সঙ্গে সঙ্গে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল বলেই দাবি তাঁর।
উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, কোনও চিঠিরই উত্তর মেলেনি। এর মধ্যেই ২ তারিখ বৈঠক হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ‘বয়কট’ করে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সঙ্গীরা। পরে দাবি করা হয়, সদুত্তর তো মেলেইনি, উল্টে তাঁদের অপমান করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতেই এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে রাজ্য। আজকের শুনানিতে যদি মুখ্যমন্ত্রী নিজে সওয়াল করেন, তবে দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় যুক্ত হতে চলেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রীর নামে সুপ্রিম কোর্টের তরফে বিশেষ ‘গেট পাস’ ইস্যু করা হয়েছে, যার জোরেই তাঁর গাড়ি সরাসরি আদালত চত্বরে প্রবেশ করে।




















