অফ বিট – শহরের কোলাহল আর কংক্রিটের জঙ্গল থেকে মুক্তি পেতে মন যদি মাঝেমধ্যে এক শান্ত, নির্জন গন্তব্যের খোঁজ করে—যেখানে ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দ নেই, বরং সকাল শুরু হয় অচেনা পাখির কলতানে—তাহলে আপনার তালিকার শীর্ষে থাকতেই পারে বাগোরা। উত্তরবঙ্গের কোলে লুকিয়ে থাকা এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি আসলে পাহাড়, মেঘ আর আদিম প্রকৃতির এক জাদুকরী ক্যানভাস।
দার্জিলিং থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭১৫০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত বাগোরা এখনও পর্যটনের অতিরিক্ত ভিড় থেকে অনেকটাই দূরে। তাই এখানকার বাতাসে মিশে থাকে এক গভীর নীরবতা। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে যখন মেঘেদের দল আড্ডা জমায়, তখন মনে হয় যেন কোনও শিল্পীর আঁকা ছবি চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। পাইন আর সিডার বনের ঘন সবুজে মোড়া এই গ্রামে দাঁড়ালে সময়ের গতি যেন নিজেই ধীরে চলতে শুরু করে।
বাগোরার অন্যতম আকর্ষণ জিরো পয়েন্ট। ভোরের আলোয় কুয়াশার আড়াল থেকে সূর্য উঠতে উঠতে কাঞ্চনজঙ্ঘার রঙ বদলানোর দৃশ্য একেবারে স্বর্গীয়। পাখিপ্রেমীদের কাছেও এই গ্রাম স্বপ্নের মতো। নানা রঙের পরিযায়ী পাখির উড়ান ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ার অপেক্ষায় থাকে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্যও বাগোরা আদর্শ। এখান থেকেই জঙ্গল চিরে ট্রেকিং পথে পৌঁছে যাওয়া যায় চিমেনি, চটাকপুর কিংবা লাটপাঞ্চারের মতো মনমুগ্ধকর গ্রামগুলিতে।
বাগোরা পৌঁছাতে হলে এনজেপি বা শিলিগুড়ি এসে দার্জিলিংগামী গাড়িতে উঠতে হবে। ডিলারাম মোড়ে নেমে সামান্য পথ পেরোলেই পৌঁছে যাবেন এই পাহাড়ি গ্রামে। থাকার জন্য পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু সুন্দর হোমস্টে। পাহাড়ি মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা, উনুনের গরম ঘরোয়া খাবার আর জানলার বাইরে মেঘের আনাগোনা—সব মিলিয়ে বাগোরা এমন এক ঠিকানা, যেখানে গেলে ক্লান্তি নিজেই ধুয়ে-মুছে যায়।




















