রাজ্য – ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে রাত পোহালেই পেশ হতে চলেছে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই বাজেট পেশ করা হবে। কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার কোনও উল্লেখ না থাকায় এবার রাজ্য বাজেটের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। মুখে হাজার কথা বললেও কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য বিশেষ কিছু না থাকায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছেই প্রত্যাশা রেখেছে বঙ্গবাসী।
রাজ্যের সাধারণ মানুষের সুরক্ষার লক্ষ্যে একাধিক জনমুখী প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার বাংলার আর্থসামাজিক পরিস্থিতিকে আরও চাঙ্গা করার লক্ষ্য নিয়ে বাজেট সাজানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, লক্ষীর ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতা-সহ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে কী ঘোষণা হয়, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।
এই বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মীরাও। দীর্ঘদিন ধরেই ডিএ বৃদ্ধির দাবি নিয়ে আলোচনা চলছে। এবার অন্তর্বর্তী বাজেটে ডিএ বৃদ্ধির কোনও ঘোষণা আসে কি না, সেই আশাতেই বুক বাঁধছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা।
অন্যদিকে, বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দিল্লিতে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের বাজেটে বাংলার উল্লেখ না থাকা নিয়েও তিনি বিশেষ ভাবিত নন। সিঙ্গুর থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “কারও ভিক্ষা চায় না বাংলা। বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য সরকার।” সেই রাজনৈতিক বার্তার প্রতিফলন বাজেটে কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার।
সূত্রের খবর, রাজ্যের সার্বিক বাজেট বরাদ্দে ৭ থেকে ৮ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রকল্প লক্ষীর ভান্ডারের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাবও বাজেটে থাকতে পারে। ২০২১ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সেপ্টেম্বর মাস থেকে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এবার এই প্রকল্পে কতটা বরাদ্দ বাড়ে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই অন্তর্বর্তী বাজেট রাজ্য সরকারের কাছে যেমন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের পরীক্ষাও বটে।




















