এসআইআর প্রক্রিয়ায় নতুন বিতর্ক, ‘আনম্যাপড ভোটার’দের ফের শুনানির নোটিসে প্রশ্নের ঝড়

এসআইআর প্রক্রিয়ায় নতুন বিতর্ক, ‘আনম্যাপড ভোটার’দের ফের শুনানির নোটিসে প্রশ্নের ঝড়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – এটা কি শুধুই ভোটারদের হয়রানি, না কি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ‘বৈধ’ নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার নতুন কৌশল—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার আওতায় এবার কয়েক লক্ষ তথাকথিত ‘আনম্যাপড ভোটার’-কে দ্বিতীয়বার শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সূত্রের খবর, যেসব ভোটার প্রথম দফার শুনানিতে পাসপোর্টের কপি জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকের নথি এবার গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। কমিশনের যুক্তি, শুধু ভোটারের নিজের নথি যথেষ্ট নয়, বাবা-মায়ের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথিও জমা দিতে হবে। সেই কারণেই ফের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের।
উল্লেখ্য, এসআইআর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারির সময় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নিজের বা কোনও নিকট আত্মীয়ের নাম নেই, তাঁরা ‘আনম্যাপড ভোটার’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এই শ্রেণির ভোটারদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য মোট ১৩ ধরনের নথির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে পাসপোর্টকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে নতুন করে তৈরি হওয়া নির্দেশিকায় বয়সভিত্তিক শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে। যেসব আনম্যাপড ভোটারের জন্ম ১৯৮৭ সালের এপ্রিলের পর থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে, তাঁদের বাবা অথবা মায়ের নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর যাঁদের জন্ম ২০০৪ সালের পর, তাঁদের বাবা ও মা—দু’জনের নথিই পেশ করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যাদবপুর বিধানসভার ভোটার জয়া সেন ও গৌরী সাহা কিংবা মুর্শিদাবাদের ভোটার জিয়াউল শেখ—এই ধরনের বহু ভোটার ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় নোটিস পেয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন একটাই, যদি পাসপোর্ট ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ হয়, তবে হঠাৎ করে তা কেন অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে? যদিও ইআরও-দের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সিস্টেমে যে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে, তাঁদের সেই অনুযায়ীই কাজ করতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, বিষয়টি শুধুই প্রশাসনিক জটিলতা নাকি পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম ছাঁটাই করার কৌশল—তা নিয়ে স্পষ্ট প্রশ্ন উঠছে। যে নথিকে আগে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, তার গ্রহণযোগ্যতা হঠাৎ করে বদলে যাওয়ায় এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top