মুর্শিদাবাদ – রাজ্য সরকারের বাংলার বাড়ি প্রকল্প মুর্শিদাবাদ জেলার অসংখ্য অসহায় পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে ভরতপুর ২ নম্বর ব্লক এলাকায় এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে বহু মানুষের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছতে শুরু করেছে, যা পাকা বাড়ির স্বপ্ন বাস্তব করার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুনশহর গ্রামের বাসিন্দা রেনুকা বিবি এতদিন ভাঙা মাটির ঘরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতেন। বর্ষার সময়ে চাল দিয়ে জল পড়ত এবং একটিমাত্র ঘরেই জীবিকা চলত। মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে তিনি বছরের পর বছর লড়াই করেছেন। একইভাবে কষ্টের জীবন কাটিয়েছেন বিধবা নুরনিহার বিবিও। একা হাতে ভাঙা ঘর মেরামত করে কোনোরকমে বেঁচে থাকতে হত তাঁকে। আজ তাঁদের চোখের জল কষ্টের নয়, বরং স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতির।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় এক লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬০ হাজার টাকা জমা পড়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক শামসুর রহমান। ব্লক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভরতপুর ২ নম্বর ব্লক বা সালার ব্লক এলাকায় ২০৮৫ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছে গেছে। এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ সেনগুপ্ত।
দীর্ঘদিন ভাঙা চাল, ভিজে যাওয়া ঘর এবং স্থায়ী ছাদের অভাবে ভোগা মানুষদের কাছে এই প্রকল্প নতুন ভরসা এনেছে। বাংলার বাড়ি শুধু একটি ঘর তৈরির উদ্যোগ নয়, বরং অসংখ্য মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং সম্মানের নতুন ভিত্তি তৈরি করছে।




















