কলকাতা -;দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় ৯০ দিনের মাথায় বিধাননগর আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু সেই চার্জশিটে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাম অন্তর্ভুক্ত নেই। তদন্ত নথিতে একাধিকবার তাঁকে ‘পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অভিযুক্ত তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়নি।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল। মামলায় চার্জশিটে তুফান থাপা, রাজু ঢালি, সজল সরকার, গোবিন্দ সরকার ও বিবেকানন্দ সরকারের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে প্রশান্ত বর্মণের নাম যুক্ত করা হতে পারে। তবে আইনজীবী শীর্ষেন্দু সিংহ রায় দাবি করেছেন, যাঁকে ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ বলা হচ্ছে, তাঁকে পলাতক উল্লেখ করেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রভাবশালী ওই বিডিওকে সুবিধা দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষও একই মত প্রকাশ করেছেন, পুলিশ মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতে চাইছে।
স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই মৃতের পরিবার প্রশান্ত বর্মণকে প্রধান অভিযুক্ত বলে অভিযোগ করে আসছে। সেই কারণে তাঁকে বিডিও পদ থেকে সরানো হয়। প্রথমে বারাসত ও বিধাননগর আদালত থেকে আগাম জামিন পেলেও, পুলিশ তা বিরোধিতা করে হাইকোর্টে যায়। হাইকোর্ট ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। নির্দেশনা না মানায় বিধাননগর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
এরপর প্রশান্ত বর্মণ সুপ্রিম কোর্টে যান। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি আদালতে হাজির হননি এবং পুলিশও তাঁকে খুঁজে পাননি। এই পরিস্থিতিতেই চার্জশিটে তাঁকে ‘পলাতক’ উল্লেখ করে নথি জমা দেওয়া হয়।
গা-ঢাকা দেওয়া অবস্থাতেই প্রশান্ত বর্মণ দাবি করেছিলেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।




















