স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহে নারায়ণগড়ে নৃশংস খুন, প্রেমিককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী ও ছেলে

স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহে নারায়ণগড়ে নৃশংস খুন, প্রেমিককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী ও ছেলে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


পশ্চিম মেদিনীপুর – স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে ভয়াবহ খুনের অভিযোগ উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে। বাড়িতে ঢুকে স্ত্রীয়ের কথিত প্রেমিককে হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভয় হেমরম ও তাঁর ছেলে স্বদেশ হেমরমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ধৃতদের খড়গপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম কার্তিক শাসমল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অভয় হেমরম নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা এবং কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকতেন। সেই সময়েই তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কার্তিক শাসমলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ। কার্তিক নিজেও বিবাহিত ছিলেন। স্ত্রীর এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল অভয়ের মনে।
শুক্রবার রাতে বাড়ি ফিরে ছেলে স্বদেশকে সঙ্গে নিয়ে কার্তিক শাসমলের বাড়িতে হানা দেয় অভয়। অভিযোগ, গভীর রাতে দরজা ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢুকে ঘুমন্ত কার্তিকের উপর হাঁসুয়া নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। মশারি ছিঁড়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে কার্তিককে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
কার্তিকের স্ত্রীর অভিযোগ, স্বামীকে বাঁচাতে এগোতে গেলে তাঁকেও খুন করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, খুনের পর রক্তে ভেজা হাঁসুয়া কার্তিকের স্ত্রীর আঁচলে মুছে নির্বিকারভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় অভিযুক্ত। তাঁর চিৎকার শুনেই প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কার্তিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে মৃতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতেই অভয় হেমরম ও তাঁর ছেলে স্বদেশকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও খুনে ব্যবহৃত হাঁসুয়াটি এখনও উদ্ধার হয়নি। পুলিশ ঘটনার পিছনের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও হিংসার এমন ভয়াবহ পরিণতি আবারও সমাজে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top