বিদেশ – ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণার মধ্যেই দু’দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সঙ্গী হিসেবে ভারতের গুরুত্ব এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান বিশ্বাসযোগ্যতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
কুয়ালালামপুরে ভারতীয় ডায়াসপোরার এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ব্রিটেন, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একাধিক দেশ আজ ভারতকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখছে। তাঁর কথায়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাক্ষরিত একাধিক বাণিজ্যচুক্তিই সেই আস্থার স্পষ্ট প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বাসযোগ্যতাই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সবচেয়ে মূল্যবান মুদ্রা।
মোদী আরও জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে। এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় ডায়াসপোরাই সেতুর ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিতকে সবচেয়ে মজবুত করে।
দু’দিনের সফরে কুয়ালালামপুরে পৌঁছতেই রাজকীয় অভ্যর্থনা পান প্রধানমন্ত্রী মোদী। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালে এটি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে স্বাগত জানান এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মানে আয়োজন করা হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সেই মঞ্চে ভারতনাট্যম, কত্থক, কথাকলি, কুচিপুড়ি ও ওডিসির মতো বিভিন্ন ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় ও মালয় ভাষার মধ্যে বহু মিল রয়েছে বলেই দুই দেশের সম্পর্ক এত দৃঢ়। তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই তামিল জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তামিল সংস্কৃতির প্রভাবেই মালয় ইউনিভার্সিটিতে থিরুভাল্লুভর চেয়ার চালু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে থিরুভাল্লুভর সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।
মালয়েশিয়ার প্রায় ৫০০টি স্কুলে শিশুদের ভারতীয় ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয়—এই তথ্যও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ভারতের সাফল্য মানেই মালয়েশিয়ার সাফল্য, আর সব মিলিয়ে তা এশিয়ার সাফল্য। ভারতীয় ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, যেন তাঁরা তাঁদের মালয় বন্ধুদের নিয়ে ভারতে ভ্রমণে আসেন। মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ যত বাড়বে, ততই দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। শুধু বাণিজ্য নয়, পর্যটন ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২৫ সালে ১৫ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় পর্যটক মালয়েশিয়া সফর করেছেন বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথাও গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন আনোয়ার ইব্রাহিম।




















