ভারত-পাকিস্তান টি-২০ ম্যাচ ঘিরে বয়কটের হুঁশিয়ারি থেকে নরম পিসিবি, আইসিসির চাপেই কি বদলাচ্ছে অবস্থান?

ভারত-পাকিস্তান টি-২০ ম্যাচ ঘিরে বয়কটের হুঁশিয়ারি থেকে নরম পিসিবি, আইসিসির চাপেই কি বদলাচ্ছে অবস্থান?

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


খেলা – টি-২০ বিশ্বকাপের সূচিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই কেবল ক্রিকেট নয়, সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তাপ ও রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই কড়া অবস্থানে ভাঁটা পড়েছে। সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কড়া বার্তার পরেই পিসিবি তাদের অবস্থান নরম করতে বাধ্য হয়েছে।
আইসিসি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত ম্যাচে না নামলে পাকিস্তান বোর্ডকে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। আর সেই সম্ভাবনাই এই বিতর্কে নতুন মোড় এনে দিয়েছে। বর্তমানে আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে শুরু হয়েছে তথাকথিত ‘স্ট্রাকচার্ড ডায়ালগ’, অর্থাৎ গঠনমূলক আলোচনা। সরাসরি সংঘাতের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে জানা যাচ্ছে।
পিসিবির প্রাথমিক দাবি ছিল, বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে তারা ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ধারার যুক্তি তুলে ধরে। পিসিবির বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের নির্দেশের কারণেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু আইসিসি এই যুক্তি মানতে নারাজ।
আইসিসির তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ‘ফোর্স ম্যাজিউর’-এর আওতায় পড়ে না। বোর্ডকে স্পষ্ট করে বলা হয়, এই ধারা প্রযোজ্য হলে তার পক্ষে নির্দিষ্ট যুক্তি, প্রমাণ এবং ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ দেখাতে হবে। আইসিসির এক কর্তার কথায়, “ব্যাখ্যা ছাড়া বা প্রশ্ন এড়িয়ে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করা যায় না।” এই কড়া অবস্থানের পরই পিসিবিকে আলোচনায় বসতে হয়।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে শুধু দুই বোর্ড নয়, গোটা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কাঠামোই বড় ধাক্কা খাবে। সম্প্রচারকারী সংস্থা থেকে শুরু করে স্পনসর, টিকিট বিক্রি—সব ক্ষেত্রেই ক্ষতির অঙ্ক কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। এই ম্যাচকেই আইসিসির ‘ক্যাশ কাউ’ বলা হয়।
এই আর্থিক দিকটি সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটও পিসিবিকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, ম্যাচ বাতিল হলে শুধু বোর্ডের রাজস্ব নয়, আয়োজক দেশের পর্যটন শিল্প এবং সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে জানান, এই ম্যাচ ঘিরে বিপুল পর্যটন আয়ের সম্ভাবনা ছিল, যা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই চাপের মুখেই পিসিবি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। অর্থাৎ বয়কটের হুমকি থাকলেও বাস্তবে দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না পাকিস্তান।
এই মুহূর্তে ক্রিকেটমহলের ধারণা, পিসিবি পুরো সংঘাতের পথে হাঁটতে চাইছে না। আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসার অর্থই হল সমঝোতার রাস্তা খোলা রাখা। শেষ পর্যন্ত আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পাকিস্তান মাঠে নামবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আলোচনার টেবিল থেকে কী সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top