দিল্লি – দিল্লির জনকপুরী এলাকায় নির্মাণকাজ চলাকালীন খোঁড়া প্রায় ১৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক যুবকের। মৃতের নাম কমল ধ্যানি। গত শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, প্রায় আট ঘণ্টা ধরে গর্তের ভিতরেই পড়ে ছিল তাঁর দেহ, কিন্তু কেউ উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেননি। রাতভর পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ভোরে পরিবারের খোঁজের সময়ই সামনে আসে ভয়াবহ সত্য।
২৫ বছরের কমল ধ্যানি একটি প্রাইভেট ব্যাঙ্কে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাত ১২টা ৫০ নাগাদ তিনি তাঁর যমজ ভাই করণ ধ্যানিকে ফোন করে জানান, আর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাবেন। মাকে রুটি বানানোর কথাও বলেন তিনি। পরিবার তখন মধ্যরাতে একসঙ্গে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্কে বদলে যায়। করণ জানান, “ও বলেছিল বাড়ির পথেই আছে। আমরা সবাই অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু তার বদলে সারারাত ওকে খুঁজে বেড়াতে হয়েছে।”
আধ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কমল বাড়ি ফেরেননি। ফোনেও আর যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। উদ্বেগ দ্রুত আতঙ্কে পরিণত হয়। পরিবারের লোকজন রাতেই খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। রোহিণীতে কমলের অফিসেও যাওয়া হয়। ম্যানেজার জানান, কমল অনেক আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ম্যানেজারও পরিবারের সঙ্গে খোঁজে যোগ দেন।
এক থানার পর আরেক থানায় ঘুরে বেড়ানো, ফাঁকা রাস্তায় রাস্তায় মোটরবাইক বা ফোনের কোনও খোঁজ— কিছুই মেলেনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায় অনিশ্চয়তার মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ভোরের দিকে পুলিশের ফোন আসে। জানানো হয়, কমল আর নেই।
জনকপুরী এলাকায় দিল্লি জল বোর্ডের নর্দমা পাইপলাইন সংস্কারের জন্য খোঁড়া প্রায় ১৫ ফুট গভীর একটি গর্ত থেকে কমলের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর মাথায় তখনও হেলমেট পরা ছিল। কাদায় মাখা অবস্থায় গর্তের পাশে পড়ে ছিল তাঁর মোটরবাইক। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাড়ি ফেরার পথে বাইক চালাতে চালাতেই তিনি ওই খোলা গর্তে পড়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরও চরম অবহেলা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাতে গর্তের কাছে থাকা শ্রমিকদের জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা জানান, কেউ সেখানে পড়ে যায়নি। পুলিশ এই দিকটিও তদন্তের আওতায় রেখেছে। পাশাপাশি পরিবারের আরও অভিযোগ, পুলিশের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সাহায্য পাওয়া যায়নি। করণ ধ্যানির বক্তব্য অনুযায়ী, রাতে একাধিক থানায় গিয়েও কোনও সমাধান মেলেনি। ২৪ ঘণ্টা না হলে মিসিং ডায়েরি নেওয়া যায় না বলে জানানো হয়। পরে মোবাইল লোকেশন ও বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ট্র্যাক করেই পুলিশ জনকপুরি থানায় এসে ঘটনার হদিস পায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই গর্তটি প্রায় চার মাস ধরে খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। চারপাশে কোনও সতর্কতা চিহ্ন বা ব্যারিকেড ছিল না। নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় ছড়িয়ে থাকায় পথচারী, স্কুলপড়ুয়া এবং যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হত। বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি গর্তটি ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে।
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে নির্মাণকাজের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। একটি তরতাজা প্রাণের মৃত্যু কি শুধুই অবহেলার ফল, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে জনকপুরী থেকে গোটা শহর জুড়ে।




















