কলকাতা – আজ আরজি করের নিহত তরুণী চিকিৎসকের জন্মদিন। ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। সেই ঘটনার পর কেটে গিয়েছে দেড় বছর। শিয়ালদহ আদালত একমাত্র ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করলেও, আজও প্রকৃত বিচার মেলেনি বলেই দাবি নির্যাতিতার পরিবার ও আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের।
সোমবার, নির্যাতিতার জন্মদিনে ফের বিচার চেয়ে পথে নামছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। ধর্মতলায় একাধিক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরেই ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাবেন তাঁরা। আরজি কর আন্দোলনের প্রথম সারিতে যাঁরা ছিলেন, সেই বহু জুনিয়র চিকিৎসকের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
৯ ফেব্রুয়ারি নির্যাতিতার জন্মদিনের দিনই তাঁর মৃত্যুর এক বছর ছয় মাস পূর্ণ হল। গত বছর জানুয়ারিতে শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে সেই রায়ে সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এত বড় একটি ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় একজনের পক্ষে একা জড়িত থাকা সম্ভব নয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আরও অনেকে যুক্ত রয়েছেন বলে তাঁদের বিশ্বাস।
ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করেছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তবে তদন্ত চললেও আর কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। এই নিয়ে সিবিআইয়ের ভূমিকা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা।
উল্লেখ্য, গত বছরও এই দিনটিতে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের উদ্যোগে সোদপুর মহেন্দ্রনগর উন্নয়ন সমিতির মাঠে বসেছিল ‘অভয়া ক্লিনিক’। পাশাপাশি আরজি কর প্রাঙ্গণে ‘Cry of the Hour’-এর সামনে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। আজ নির্যাতিতার জন্মদিনে সেই দাবিই আবার নতুন করে জোরালো হয়ে উঠছে—সম্পূর্ণ সত্য উদঘাটন ও প্রকৃত ন্যায়বিচার।



















