ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে আজ ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি, নজর গোটা দেশের

ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে আজ ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি, নজর গোটা দেশের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে শুরু থেকেই সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্যুতে তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং মামলাও দায়ের করেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতে বেনজির সওয়াল করে রাজনৈতিক ও আইনি ইতিহাস গড়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির মাটিতে সেই সওয়াল ঘিরে তৈরি হয়েছিল তীব্র চাঞ্চল্য। সুপ্রিম কোর্টে নিজের মামলায় নিজেই সওয়াল করা দেশের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী তিনি, এর আগে এমন নজির দেখা যায়নি।
আজ সোমবার দুপুর দুটোয় সেই মামলার ফের শুনানি রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটি উঠবে। গোটা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর আজকের শুনানির দিকে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা অস্বীকার করতে পারেনি শীর্ষ আদালত। বরং তাঁর তোলা যুক্তির ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট এবং কমিশনের সমালোচনাও করে।
সেই শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জবাবদিহি করতে বলেছিল। কমিশনের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে নির্দেশ দেয় আদালত। আজকের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাজির থাকতে পারেন বলে জল্পনা চললেও সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দিল্লি যাচ্ছেন না। তাঁর হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করবেন শ্যাম দিওয়ান, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দেবাঞ্জন মণ্ডলরা।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সওয়াল করবেন সিনিয়র আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী এবং সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সঙ্গে বেঞ্চে থাকবেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তবে আজ বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি উপস্থিত থাকছেন না, তাঁর পরিবর্তে বেঞ্চে বসবেন বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এসআইআর সংক্রান্ত মামলার আগের শুনানিতে ‘পার্টি ইন পার্সন’ হিসেবে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়ায় বেঞ্চকে ধন্যবাদ জানান তিনি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোর্টের নির্দেশ মানা হচ্ছে না এবং বারবার চিঠি পাঠিয়েও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
সেই দিন সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন পেশ করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে নিজের বক্তব্য রাখার অনুমতি চান। তাঁর সওয়াল শোনার পরই নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করে শীর্ষ আদালত এবং কমিশনের কর্তাদের আরও সহানুভূতিশীল ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। বাংলার মানুষের হয়রানির কথা তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি বিচার পাচ্ছেন না এবং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আজকের শুনানিতে সেই মামলার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top