বিনোদন – টলিপাড়ার শিল্পী সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সামনে এল নতুন কমিটির পূর্ণাঙ্গ ছবি। প্রবীণ থেকে নবীন—টালিগঞ্জের একঝাঁক পরিচিত মুখ এবার সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, আবির চট্টোপাধ্যায়দের মতো তারকারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত হলেন সংগঠনের নেতৃত্বে।
৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার অনুষ্ঠিত হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচন। এবারের ভোট একাধিক দিক থেকে ব্যতিক্রমী ছিল। এই প্রথম সংগঠনের সমস্ত সদস্যের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করা হয়। ন্যূনতম সাত বছরের সদস্যপদ থাকলেই যে কোনও সদস্য প্রার্থী হতে পেরেছেন, যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ভরত কল, লাবণী সরকার এবং শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।
সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। সহকারী সম্পাদক হয়েছেন আবির চট্টোপাধ্যায় ও দেবদূত ঘোষ। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন চন্দন সেন ও শুভাশিস মিত্র।
কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় এবং সহকারী কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন দিগন্ত বাগচী। কার্যকরী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুশল চট্টোপাধ্যায়, জয়ন্ত দত্ত বর্মন, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, পায়েল দে, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, সুদীপ মুখোপাধ্যায় এবং শুভ্রজিৎ দত্ত।
নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি সংগঠন এবার একাধিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে সদস্যদের নানা অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম উদ্যোগ ‘মেম্বার্স কর্নার’। মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিল্পীরা এখানে নিজেদের পেশাদার পোর্টফোলিও বা জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করতে পারবেন। এর ফলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘কাস্টিং কর্নার’। এই পরিষেবায় সদস্যরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ২২০০টি প্রযোজনা সংস্থা ও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে কর্মহীন শিল্পীদের নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করা যায়।
এছাড়াও চালু করা হচ্ছে ‘ই-শুটিং ডায়েরি’। এর মাধ্যমে প্রতিদিনের কাজের ডিজিটাল রেকর্ড রাখা যাবে। কোনও আধিকারিকের সইয়ের জন্য অপেক্ষা না করে শিল্পীরাই নিজের কাজের তথ্য সরাসরি আপলোড করতে পারবেন।
সংগঠন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ‘মেম্বার্স কর্নার’ ও ‘কাস্টিং কর্নার’ পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করতে খুব শিগগিরই একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে। এর ফলে সদস্যদের আর অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানাতে হবে না—সব পরিষেবাই মিলবে অনলাইনে।




















