রাজ্য – বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও পরে ২১ ফেব্রুয়ারির সম্ভাবনার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে এখন সিইও দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই দু’টি তারিখের কোনওটিতেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলায় তালিকা প্রকাশ ২১ ফেব্রুয়ারির পরেই হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
সিইও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের অতিরিক্ত সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ সময় পাবেন ইআরওরা, যাতে নথি যাচাই করে তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তবে ইআরওদের কাজ শেষ হলেই যে তালিকা প্রকাশ হবে, এমন নয়। প্রথমে ইআরওদের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখবেন জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা। তার পরে সিইও দফতর গোটা বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে। সেই তালিকা পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশনের অনুমোদন মিললেই কেবল প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এই একাধিক ধাপের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণেই সময় আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১.৩৯ কোটি শুনানি সম্পন্ন হয়েছে এবং ১.০৬ কোটির বেশি নথি আপলোড করা হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ শুনানি বাকি রয়েছে, যা শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারির পর এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যেই ইআরওদের নথিপত্র যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালত আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনে কমিশন ইআরও ও এআরওদের বদল করতে পারবে। তবে যোগ্য মনে হলে বর্তমান আধিকারিকদের দিয়েই কাজ চালানো যেতে পারে।
আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরওরাই। মাইক্রো অবজার্ভার এবং অন্যান্য আধিকারিকেরা কেবল সহায়ক ভূমিকায় থাকবেন। পাশাপাশি রাজ্যের দেওয়া অফিসারদের জন্য দু’দিনের প্রশিক্ষণের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসার যুক্ত হচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে তাঁদের সংশ্লিষ্ট ডিইও বা ইআরওর কাছে রিপোর্ট করে দায়িত্ব গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সম্ভব নয়। ফলে বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা এখন কার্যত ২১ ফেব্রুয়ারির পরেই গড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।




















