অঙ্ক পরীক্ষার আতঙ্কে পূর্ব মেদিনীপুরে একসঙ্গে অসুস্থ আট মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, হাসপাতালেই পরীক্ষা

অঙ্ক পরীক্ষার আতঙ্কে পূর্ব মেদিনীপুরে একসঙ্গে অসুস্থ আট মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, হাসপাতালেই পরীক্ষা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা শুরু হতেই আতঙ্কের ছবি ধরা পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরে। কারও মাথা ঘোরা, কারও হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, আবার কারও বমি বমি ভাব—পরীক্ষার চাপে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে মোট আটজন পরীক্ষার্থী। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা, রাত জাগা পড়াশোনা এবং মানসিক চাপ মিলিয়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার এই ঘটনা ঘটে জেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে।
সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় থাকা চারজন পরীক্ষার্থীকে নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতাল ও এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্যালাইন দেওয়ার পর হাসপাতালেই বসে অঙ্ক পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বাকি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রেই মেডিক্যাল টিমের সহায়তায় পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়।
মজার বিষয়, পরীক্ষার পর বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীই জানিয়েছে যে প্রশ্নপত্র মোটেও কঠিন ছিল না। অনেকের দাবি, প্রশ্ন ভালো হয়েছিল এবং পরীক্ষা ভালোই গেছে। তবুও অঙ্ক পরীক্ষার ভয় ও মানসিক চাপ থেকেই এই অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিভাবক ও শিক্ষকদের ধারণা।
এদিন হলদিয়ার বাড়ঘাসিপুর হাইস্কুল পরীক্ষাকেন্দ্রে একটি আলাদা ঘটনা নজরে আসে। চকদ্বীপা হাইস্কুলের এক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার হওয়ায় তার পরীক্ষা সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করা হয়।
সবচেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের রাজা রামচক শিক্ষানিকেতনের ছাত্র শেখ রাকিবুল ইসলাম। নন্দীগ্রাম ব্রজমোহন গার্লস হাইস্কুলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্যালাইন দেওয়ার পর হাসপাতালেই বসে পরীক্ষা দেয় সে। বিষয়টির তদারকিতে নিজে হাসপাতালে যান সেন্টার সেক্রেটারি নন্দিতা রক্ষিত দিন্দা, পাশাপাশি পুলিশও উপস্থিত ছিল।
একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়ে আশদতলা নিবেদিতা কন্যা বিদ্যামন্দিরে পরীক্ষা দিতে আসা মনুচক মিলন বিদ্যাপীঠের ছাত্র সুজন পাত্র। তাকেও দ্রুত নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার পর পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
পটাশপুর-২ ব্লকের খাড় হাইস্কুল পরীক্ষাকেন্দ্রে এগরা স্বর্ণময়ী গার্লস হাইস্কুলের সঞ্জনা দাস এবং পাঁচরোল হাইস্কুলের সঙ্গীতা ঘোড়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। দু’জনকেই এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পাঁশকুড়া ও ময়না ব্লকের কয়েকটি কেন্দ্রেও পরীক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটলেও, সেখানে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
এই দিনই পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে যান মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা কনভেনার সত্যজিৎ কর। নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাট আদর্শ হাইস্কুল, শ্রীকৃষ্ণপুর হাইস্কুল, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ডিমারি গার্লস এবং রামচন্দ্রপুর হাইস্কুল ঘুরে দেখে তিনি জানান, সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই চলছে।
তবে মোবাইল উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রামানুজবাবু। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যাদের কাছে মোবাইল পাওয়া যাচ্ছে, তাদের পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফর্ম ফিলআপ ও অ্যাডমিট কার্ড বিতরণে স্কুলগুলির গাফিলতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, এখনও প্রায় ৫০টি অ্যাডমিট কার্ড তাঁর গাড়িতেই রয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে স্কুলগুলিকে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দেন পর্ষদ সভাপতি।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top