রাজ্য – মহারাষ্ট্রের পুণেতে পুরুলিয়ার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস ও ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত সুখেন মাহাতো বয়স মাত্র ২৪। তিনি পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের বাসিন্দা এবং পুণেতে কাজ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি। মমতার বক্তব্যে বলা হয়েছে, ভাষা, পরিচয় ও নিজের শিকড়ের কারণে এক তরুণকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, বিদ্বেষ ও বিদেশভীতিকে উসকে দেওয়ার ফলে নিরীহ মানুষ আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে তিনি বাকরুদ্ধ, ক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত। তিনি অভিযোগ করেছেন, এমন এক সামাজিক আবহ তৈরি হয়েছে যেখানে ঘৃণাকে হাতিয়ার করা হচ্ছে এবং নিরপরাধ মানুষকে নিশানা বানানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া সুখেনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বাংলা তাঁদের পাশে রয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সবরকম প্রচেষ্টা করা হবে।”
এই ঘটনার পর পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আন্তঃরাজ্য সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্ন নতুনভাবে সামনে এসেছে। ভাষা বা আঞ্চলিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনা নতুন নয়, তবে এক তরুণ শ্রমিকের মৃত্যু উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে এখনও বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত ও গ্রেফতারের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। সুখেন মাহাতোর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার ও এলাকা শোকস্তব্ধ, এবং সেই শোকের সঙ্গে জুড়ে গেছে বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন।
গত কয়েক মাসে একাধিক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সরব হয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র বাঙালি হওয়ায় বা বাংলায় কথা বলার জন্য শ্রমিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তভার এনআইএ-এর হাতে রয়েছে। এবার পুণের ঘটনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



















