দিল্লি – সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের এক সপ্তাহ পরেও বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র ২৫ শতাংশ পরিশোধ না করায় রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরের দুই আমলাকে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠালেন মামলাকারীরা। শুক্রবার সেই নোটিস পাঠানো হয়েছে মুখ্যসচিব Nandini Chakraborty এবং অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রের উদ্দেশে। ডিএ সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন করে চাপ বাড়ল রাজ্যের উপর।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি Supreme Court of India নির্দেশ দেয়, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ দ্রুত পরিশোধ করতে হবে রাজ্যকে। পাশাপাশি বাকি ৭৫ শতাংশ কীভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে মেটানো হবে, তা নির্ধারণ করতে আদালতের নির্দেশেই একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগেও গত বছরের ১৬ মে শীর্ষ আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয় ২৭ জুন। তবে তখন রাজ্য সরকার অতিরিক্ত ছ’মাস সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ প্রথমে ৫০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধের কথা বললেও, রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী Abhishek Manu Singhvi জানান, একসঙ্গে ৫০ শতাংশ দেওয়া সম্ভব নয় এবং এতে আর্থিক সঙ্কট তৈরি হবে। এরপর আদালত অন্তত ২৫ শতাংশ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া ডিএ-র ওই অংশ মেটানোর কথা বলা হয়।
পরবর্তীতে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে রাজ্য আবারও শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। সাম্প্রতিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। ফলে ২৫ শতাংশ বকেয়া পরিশোধ করতেই হবে—এই অবস্থানেই অনড় থাকে আদালত।
কিন্তু নির্দেশ জারির এক সপ্তাহ পরেও অর্থ মেটানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতেই আদালত অবমাননার নোটিস পাঠানো হয়েছে দুই শীর্ষ আমলাকে। ডিএ ইস্যুতে প্রশাসনিক ও আইনি চাপ আরও তীব্র হল বলে মনে করছে মহল।




















