উত্তর 24 পরগনা – টানা কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে খোঁজ মিলল বাদুড়িয়ার যুবক নাসির আলির। তবে সেই খোঁজ মেলে গা শিউরে ওঠা পরিণতিতে। বিভিন্ন খাল ও নদী থেকে তাঁর দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে এক বিএলও কর্মী রিজওয়ান হাসান মণ্ডল এবং তাঁর বন্ধু সাগর গায়েনকে। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে নৃশংস হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন নাসির। পরিবারের দাবি, এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে এআরও পরিচয় দিয়ে জানান যে এসআইআর সংক্রান্ত কাজের জন্য নাসিরের মায়ের আধার কার্ডের ফটোকপি প্রয়োজন। কোথায় জমা দিতে হবে তাও জানানো হয় ফোনে। সেই অনুযায়ী নাসির তড়িঘড়ি মায়ের আধার ও ভোটার কার্ডের ফটোকপি নিয়ে মোটরবাইকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তারপর থেকেই তাঁর আর খোঁজ মেলেনি। ফোনেও যোগাযোগ করা যায়নি।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে West Bengal Police-এর বাদুড়িয়া থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ১০ ফেব্রুয়ারি একটি খালের ধারে উদ্ধার হয় নাসিরের জুতো। পরে খাল থেকেই মেলে তাঁর মোটরবাইক। কিন্তু যুবকের কোনও হদিস না মেলায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তেতুলিয়া মসলন্দপুর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে সামিল হন।
তদন্তে পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে এলাকার বিএলও রিজওয়ান হাসানের দিকে। শুক্রবার তাঁকে এবং তাঁর বন্ধু সাগর গায়েনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বসিরহাট আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
জেরা শুরু হতেই মামলায় নাটকীয় মোড় আসে। পুলিশের কড়া প্রশ্নের মুখে ধৃতরা স্বীকার করে কোথায় ফেলা হয়েছে নাসিরের দেহ। গভীর রাতে বাদুড়িয়ার বিভিন্ন খাল-নদীতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। চাতরা ব্রিজের নীচের যমুনা খাল, চারঘাটের ইছামতী নদী এবং লালকুঠির একটি ডোবা—এই সব জায়গা থেকে প্যাকেটে ভরা অবস্থায় উদ্ধার হয় পচাগলা, টুকরো করা দেহাংশ।
মৃতের কাকা শফিকুল মণ্ডল জানিয়েছেন, রিজওয়ানের সঙ্গে নাসিরের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল। সেই বন্ধুই কেন এমন নৃশংস পরিণতি ঘটাল, তা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
খুনের উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতদের জেরা করে ঘটনার পূর্ণ নেপথ্য ও সম্ভাব্য কারণ জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।




















