এসআইআর বিতর্কে কড়া পদক্ষেপ, সাত এইআরও সাসপেন্ড; স্বচ্ছতা নিয়ে ফের প্রশ্ন

এসআইআর বিতর্কে কড়া পদক্ষেপ, সাত এইআরও সাসপেন্ড; স্বচ্ছতা নিয়ে ফের প্রশ্ন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR in Bengal) নিয়ে শুনানি পর্ব শেষ হতে না হতেই ফের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। গুরুতর বেনিয়মের অভিযোগে সাতজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO)-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, কমিশন এই প্রথম এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিজেদের ক্ষমতার প্রদর্শন করল। প্রয়োজনে এফআইআর দায়েরও করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুভেন্দুর অভিযোগ, সাসপেন্ড হওয়া এইআরও-রা অবৈধভাবে ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট ও প্যান কার্ড গ্রহণ করেছেন এবং কমিশনের গাইডলাইন সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করে কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর চাপে এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী-র ইঙ্গিতে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েই পুরো চক্রটি চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
ফর্ম-৭ সংক্রান্ত অভিযোগগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, আইন-নিয়ম মেনেই কমিশন এসআইআর-এর কাজ করে থাকে এবং তার নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। অন্য কোনও রাজ্যে যেমন নিয়ম ভাঙা হয়নি, বাংলাতেও তা হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসআইআর ইস্যুতে বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যসচিবদেরও কাঠগড়ায় তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অন্য কোনও রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ফাইল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে যায় না; মুখ্যসচিবের মাধ্যমেই তা নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু বাংলায় মনোজ পন্থ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তী—নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত ফাইল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি হস্তক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
এদিকে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে নন্দিনী চক্রবর্তীকে শুক্রবার দিল্লিতে তলব করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দফতরে হাজির হয়ে একাধিক নির্দেশ অমান্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় তাঁকে। এরপরই চিঠি দিয়ে সাতজন এইআরও-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জারি করা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাতজনের মধ্যে দু’জনের ক্ষেত্রে আগেও সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে কমিশন জানিয়েছে। সেই নির্দেশ পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবার আরও পাঁচজনের নাম যুক্ত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top