মাধ্যমিকের পর বাল্যবিবাহ রুখতে বেলপাহাড়ি থানার বাড়ি বাড়ি অভিযান

মাধ্যমিকের পর বাল্যবিবাহ রুখতে বেলপাহাড়ি থানার বাড়ি বাড়ি অভিযান

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


ঝাড়গ্রাম – সদ্য মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হতেই এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিল ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি থানা। প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে হঠাৎ পুলিশ পৌঁছে যাওয়ায় প্রথমে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হলেও পরে সামনে আসে এক সচেতনতা অভিযানের চিত্র। মাধ্যমিকের পর বহু নাবালিকা ছাত্রীকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রুখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার দিন থেকেই থানার ওসি শুভেন্দু রানার নেতৃত্বে পুলিশ দল ভাগ হয়ে পরীক্ষার্থী নাবালিকাদের বাড়ি বাড়ি যেতে শুরু করে। তারা ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন এবং অভিভাবকদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন—১৮ বছরের আগে কোনও অবস্থাতেই মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য থানার ফোন নম্বরও তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অঞ্চলের বহু পরিবারেই মেয়েরা প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী। সচেতনতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই মাধ্যমিকের পর পড়াশোনা বন্ধ করে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই কারণেই গত বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রচার ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর ছাত্রীদের উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার বিষয়টিও বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই সচেতনতা অভিযানে সহযোগিতা করছে বাঁশপাহাড়ি হাইস্কুল এবং ভুলাভেদা হাইস্কুল। বেলপাহাড়ি মহকুমা পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রেয়া সরকার জানান, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় পালিয়ে বিয়ে এবং কম বয়সে মাতৃত্বের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তাই বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই বাড়ি বাড়ি এই প্রচার চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে জেলার অন্যান্য থানাতেও এই উদ্যোগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top