কলকাতা – আরজি কর-কাণ্ডে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ফের আদালতের দ্বারস্থ হলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। পুলিশকর্মী অনুপ দত্তকে গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ঘটনার আগে তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের-সহ আরও কয়েক জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জিও জানানো হয়েছে। আবেদনপত্রে পলিগ্রাফ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি রয়ে গিয়েছে এবং বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত উপেক্ষা করা হয়েছে।
শিয়ালদহ আদালত ইতিমধ্যেই আবেদন গ্রহণ করেছে। সূত্রের খবর, এ দিন দুপুরেই বিষয়টি নিয়ে শুনানি হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নির্যাতিতার পরিবার-সহ গোটা রাজ্য। পরিবার সূত্রে দাবি, তদন্তের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে।
উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ইতিমধ্যেই মামলার তদন্তভার নিয়েছিল। তবু পরিবারের অভিযোগ, তদন্ত পূর্ণাঙ্গ নয়। তাঁদের দাবি, ঘটনায় এক জন নয়, একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। আরজি কর-কাণ্ডে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সাজা ঘোষণা হলেও, নির্যাতিতার বাবা-মায়ের কথায় এখনও প্রকৃত বিচার মেলেনি।
নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, ডিএনএ রিপোর্টে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছিল। কিন্তু তদন্ত সেই দিক ধরে এগোয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। নির্যাতিতার মা-ও একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, তৎকালীন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় একা নন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে আরও কয়েক জন।
মামলার শুনানি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, মামলাটি বারবার তালিকাভুক্ত হলেও কার্যত শুনানির জন্য উঠছে না। প্রতিদিন লিস্টে নাম থাকলেও ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে শুনানি, ফলে বিচারপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে না বলেই দাবি তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও দিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের আর্জি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক এবং সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




















