কলকাতা – বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। ধৃতদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে একাধিক সিমবক্স, একটি ল্যাপটপ, ৯টি রাউটার, ১৭টি মোবাইল ফোন, ২৫০টি সিম কার্ড, সিসিটিভি ক্যামেরা, অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং কিছু মালয়েশিয়ান মুদ্রা। গ্রেফতার হওয়া দু’জনের নাম মহম্মদ আমজাদ ও আবীর শেখ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, আমহার্স্ট স্ট্রিটের পাটোয়ারি বাগান লেনের একটি বাড়ি থেকেই চলত এই প্রতারণার কারবার। আন্তর্জাতিক ভিওআইপি কলকে লোকাল কলে রূপান্তরিত করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করত চক্রটি। বেআইনিভাবে ‘টেলিকম গেটওয়ে’ ব্যবহার করে মূল উৎস গোপন রেখে প্রতারণার জাল বিস্তার করা হয়েছিল। তিন কোটিরও বেশি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ, সিবিআই অফিসার সেজে তথাকথিত অবৈধ পার্সেল পাচারের অভিযোগ আনা হত, গ্রেফতারের ভয় দেখানো হত এবং জাল নথি দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রতারণায় ব্যবহার করা হত ‘সিম বক্স’। এটি এমন একটি বিশেষ যন্ত্র, যেখানে একসঙ্গে বহু সিম কার্ড বসিয়ে আন্তর্জাতিক কলকে স্থানীয় কল হিসেবে দেখানো যায়। ফলে কলের প্রকৃত উৎস আড়াল হয়ে যায়। তদন্তে উঠে এসেছে, কলকাতার বাগুইআটি, রাজাবাজার ও এসপ্ল্যানেড এলাকায় এই সিম বক্স নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত আবীর শেখ। ভার্চুয়াল নম্বর ও বাংলাদেশের ভিপিএন ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ। পাশাপাশি মালয়েশিয়া-যোগেরও প্রমাণ মিলেছে।
পুলিশের দাবি, এই চক্রের মূল পাণ্ডা ত্রিপুরার বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মালয়েশিয়ার নাগরিক চুং ওয়েই কিয়াত, যিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসা নিয়ে ভারতে আসতেন বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এই চক্রের আরও সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।



















