চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে অনিশ্চয়তা, ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা! ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ আদৌ হবে?

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে অনিশ্চয়তা, ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা! ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ আদৌ হবে?

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) চলাকালীন বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথি নিয়ে জটিলতা সামনে আসায় নির্ধারিত দিনে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কমিশনের কাছে ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক ‘অযোগ্য’ নথির হিসাব পৌঁছে গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের অনুমান, চূড়ান্ত তালিকা থেকে আরও প্রায় ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের যাচাইয়ে ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের নথি ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সেই তালিকা কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, শুনানিপর্বে প্রায় সাত লক্ষ ভোটার হাজির না হওয়ায় তাঁদের নাম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বাদ পড়ার সম্ভাব্য সংখ্যা ১০ লক্ষের গণ্ডি ছুঁতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
এর আগে মৃত, অনুপস্থিত বা নিখোঁজ হিসেবে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এবার নতুন করে নথি যাচাই পর্বে বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সংশোধন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
Supreme Court of India-এর নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তবে এখনও বিপুল পরিমাণ নথি যাচাই বাকি রয়েছে। ভোটারদের নথি জমা ও যাচাইয়ের সময়সীমা ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে যেতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে সিইও দফতর সূত্রে। প্রয়োজনে কমিশনের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানানো হতে পারে।
জেলা প্রশাসনের কাছেও এখনও ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩টি নথি যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের নথি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) ও সহকারী অফিসারদের (AERO) কাছে পাঠিয়েছেন। কমিশন সূত্রের দাবি, প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
নথি যাচাই ঘিরে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগে ১৩ ধরনের গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা প্রকাশ করেছিল এবং শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, ওই তালিকার বাইরে কোনও নথি গ্রহণ করা যাবে না। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে তালিকার বাইরে থাকা নথিও জমা নেওয়া হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তাঁদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।
ভোটের মুখে ভোটার তালিকা নিয়ে এই অনিশ্চয়তা রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এখন নজর কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে—নির্ধারিত সময়েই তালিকা প্রকাশ হবে, নাকি আরও সময় লাগবে এই বিশাল যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top