রাজ্য -;রাজ্য বিধানসভা ভোটের আগে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটল কার্শিয়াঙে। Kurseong কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক Vishnu Prasad Sharma যোগ দিলেন All India Trinamool Congress-এ। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। দলবদলের পরই কটাক্ষ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপ্রসাদ নির্দল প্রার্থী হিসেবে রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন এবং প্রায় কুড়ি লক্ষ ভোটের লড়াইয়ে তাঁর প্রাপ্তি ছিল মাত্র পাঁচ হাজারের কিছু বেশি। সেই ফলাফল টেনে তিনি বলেন, বিজেপি এখন শক্ত ভিত গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এবং বিষ্ণুপ্রসাদের মতো কেউ দল ছাড়ায় তাতে কোনও প্রভাব পড়বে না।
উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও বড় মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট শতাংশ ও আসন সংখ্যা কমবে। এমনকি তৃণমূলের অন্তত ৫০ জন নেতা টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কায় বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সকলকে দলে নেওয়া হবে না বলেই জানান বিরোধী দলনেতা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষ্ণুপ্রসাদের দলবদল আচমকা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব স্পষ্ট হচ্ছিল। বিধানসভায় বিভিন্ন সময়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র প্রশংসা করেছেন বলেও চর্চা ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কার্শিয়াঙ কেন্দ্র থেকে কি তৃণমূলের প্রার্থী হবেন বিষ্ণুপ্রসাদ? যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
তৃণমূলে যোগ দিয়ে কার্শিয়াঙের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, “আপনারা যে রাজনৈতিক চিহ্নে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, সেই রায়ের মর্যাদা আমি আজ পর্যন্ত রেখেছি।” দলবদলের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে তাঁর দাবি, মানুষের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “আমার জনগণ আমার উপর বিশ্বাস করেছিলেন। তাঁদের স্বপ্ন—উন্নত সমাজ, উন্নত ভবিষ্যৎ, উন্নত প্রজন্ম। সেই লক্ষ্যেই আমি তৃণমূলে এলাম।”
পুরনো দল বিজেপিকে আক্রমণ করে তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি এবং গত ১৭ বছর ধরে গোর্খা জনগণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাজনীতিতে এই রদবদল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটের আগে শিবিরবদল ও পাল্টা কটাক্ষে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যে আরও তপ্ত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।




















