উত্তর 24 পরগণা – খাকি পোশাক পরে পুলিশের ছদ্মবেশে চলন্ত ট্রেনে চুরি— এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেপ্তার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সঞ্জয় ব্যাপারী। রেল পুলিশের পোশাক পরে তল্লাশির নাম করে যাত্রীদের ব্যাগ হাতিয়ে পালিয়ে যেত সে। কিন্তু এক চিকিৎসকের ব্যাগে থাকা এমবিবিএস শংসাপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করতেই শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলির চুঁচুড়া-র বাসিন্দা সঞ্জয় সম্প্রতি ‘কাজের সূত্রে’ উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি এলাকায় থাকছিল। সেই সূত্র ধরেই নৈহাটি জিআরপির হাতে গ্রেপ্তার হয় সে।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন ছদ্মবেশে ট্রেনে অপরাধে সিদ্ধহস্ত সঞ্জয়। কখনও কুলি, কখনও হকার সেজে যাত্রীদের ব্যাগ বা মোবাইল চুরি করত। সম্প্রতি সে পুলিশের ছদ্মবেশে অপরাধ শুরু করে। খাকি পোশাক পরে নিজেকে রেল পুলিশের কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে শিয়ালদহগামী বালিয়া এক্সপ্রেস-এ ওঠে সে।
হুগলির ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে এক চিকিৎসক কলকাতার উদ্দেশে ওই ট্রেনে ওঠেন। তাঁর ব্যাগে ছিল ৬০০ টাকা নগদ, পাশাপাশি এমবিবিএস শংসাপত্র, কর্মস্থলের পরিচয়পত্র-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি। ট্রেনে উঠে ব্যাগটি বাঙ্কের উপর রাখেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময়ই পুলিশের ছদ্মবেশে সঞ্জয় যাত্রীদের ব্যাগে নজর রাখতে শুরু করে। তল্লাশির নামে কয়েকটি ব্যাগ ঘাঁটাঘাঁটিও করে। খাকি পোশাকের কারণে কারও সন্দেহ হয়নি। সুযোগ বুঝে চিকিৎসকের ব্যাগটি নিয়ে নৈহাটি স্টেশনে নেমে যায় সে।
পরে শিয়ালদহ পৌঁছনোর আগে চিকিৎসক ব্যাগ উধাও দেখতে পান। সহযাত্রীরা জানান, এক ‘পুলিশকর্মী’ নৈহাটিতে একটি ব্যাগ নিয়ে নেমেছেন। এরপর চিকিৎসক শিয়ালদহ জিআরপিতে জিরো এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগ পাঠানো হয় নৈহাটি জিআরপিতে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন সঞ্জয়।
এরপর নৈহাটির বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। তাঁর আইনজীবী ইনজামাম জামিনের আবেদন জানান। সরকারি আইনজীবী পুলিশ হেফাজতের আবেদন করেন। দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ধৃতকে জেরা করে চিকিৎসকের ব্যাগ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




















