স্বপ্নের ‘মিষ্টি হাব’ আজ পরিত্যক্ত, আট বছরেও চালু হল না বর্ধমানের প্রকল্প

স্বপ্নের ‘মিষ্টি হাব’ আজ পরিত্যক্ত, আট বছরেও চালু হল না বর্ধমানের প্রকল্প

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বর্ধমান – হওয়ার কথা ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির প্রদর্শনী ও বিপণনের কেন্দ্র। কিন্তু বাস্তবে তা পরিণত হয়েছে প্রায় পরিত্যক্ত স্থানে। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বর্ধমানে ৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অনাময় হাসপাতালের কাছে বাম চাঁদাইপুর মৌজায় ‘Bardhaman Misti Hub’-এর উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। বহু প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হওয়া সেই প্রকল্প আজও পূর্ণমাত্রায় চালু হল না।
আট বছর কেটে গেলেও মিষ্টি হাব কার্যকর হয়নি। বর্ধমান সীতাভোগ-মিহিদানা ওয়েলফেয়ার ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান মেলেনি। সংস্থার সম্পাদক প্রমোদ সিংহের অভিযোগ, সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, শক্তিগড়ের আমড়া এলাকার কাছে পথসাথীর পিছনের জমিতে মিষ্টি হাব গড়ার পরিকল্পনা ছিল, এমনকি ভূমিপুজোও সম্পন্ন হয়েছিল। সেই জায়গাটি ব্যবসার পক্ষে অনেক বেশি উপযুক্ত ছিল বলে মত ব্যবসায়ীদের। অনেকেই কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে ফিরেছেন বলে অভিযোগ।
২০১৭ সালের পর ২০১৯ এবং ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের তরফে দু’দফা এই প্রকল্প চালুর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস চলার পরই আবার বন্ধ হয়ে যায় কার্যক্রম। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই তলা ভবনে ৩০টি স্টল তৈরি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বাংলার বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এক ছাদের নীচে তুলে ধরা। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। বর্তমানে ভবনের ভিতরে বিভিন্ন জেলার মিষ্টির ছবি ও বোর্ড টাঙানো থাকলেও সর্বত্র অযত্নের ছাপ স্পষ্ট। ধুলোয় ঢেকে রয়েছে ঝাড়বাতি, পড়ে রয়েছে পরিত্যক্ত আসবাব।
এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ জানান। এরপর শক্তিগড় থানার উদ্যোগে কয়েক মাস আগে ছয়জন সিভিক ভলেন্টিয়ারকে পাহারার দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছে। দায়িত্বে থাকা এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের কথায়, এখন বাইরের লোকজন আর অবাধে ঢুকতে পারে না, কিন্তু এত বড় সম্পত্তি এভাবে নষ্ট হতে দেখেও খারাপ লাগে।
এলাকার বিধায়ক নিশীথ মালিকও স্বীকার করেছেন পরিকল্পনার ঘাটতির কথা। তাঁর মতে, প্রাথমিকভাবে যে জায়গায় প্রকল্পটি গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেখানে হলে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয়ই ভাবছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্বপ্নের প্রকল্প আজও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির সম্ভাবনাময় বিপণনকেন্দ্র কবে পূর্ণতা পাবে, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বর্ধমানবাসীর মনে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top