ভোটার তালিকা সংশোধনে নতুন নির্দেশিকা, অনলাইন-অফলাইন দুই পথেই আপিলের সুযোগ

ভোটার তালিকা সংশোধনে নতুন নির্দেশিকা, অনলাইন-অফলাইন দুই পথেই আপিলের সুযোগ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ভোটার তালিকা সংশোধন ও আপিল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল রাজ্যের সিইও দপ্তর। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য এবার অনলাইন ও অফলাইন—দু’ধরনের ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারবেন। এই পোর্টালে বিচারাধীন আবেদনকারীদের জন্য আলাদা একটি বিভাগ রাখা হয়েছে, যেখানে সহজেই আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি, অফলাইন ব্যবস্থাও বহাল রাখা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও কেউ আবেদন থেকে বঞ্চিত না হন।
অফলাইনে আবেদন করতে হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করে সাধারণ কাগজে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এই আবেদন জমা দেওয়া যাবে District Magistrate Office বা Sub-Divisional Officer Office-এর কার্যালয়ে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, জমা পড়া সমস্ত নথি ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে এবং মূল কাগজপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রাখতে হবে।
এছাড়াও জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে সব আবেদন ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে, সেগুলির নিষ্পত্তির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের উপরেই বর্তাবে। অর্থাৎ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকেই আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও অতিরিক্ত তালিকায় প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল শোনার জন্য ২৩টি জেলায় ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে রয়েছেন টি এস শিবজ্ঞানম, বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ এবং সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ মোট ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি।
যদি কোনও ভোটারের নাম অতিরিক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয় বা কেটে দেওয়া হয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যাবে। নতুন এই নির্দেশিকার মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top