রাজ্য – নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার-এর ভূমিকা ঘিরে বিরোধী মহলে তীব্র সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ, তাঁর আমলে কমিশন ধীরে ধীরে নিরপেক্ষ সংস্থার ভাবমূর্তি হারাচ্ছে। সমালোচকদের দাবি, কেন্দ্রের শাসক দলকে সুবিধা করে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভবানীপুর কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার পদে সুরজিৎ কুমার রায়-এর বহাল থাকা। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর বদলি চেয়ে তিনজন আধিকারিকের নাম পাঠানো হলেও, সেই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এই ইস্যুতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল-এর সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল। সেই দলে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, শশী পাঁজা, কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং কাউন্সিলর সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়। তাঁরা একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে সুরজিৎ রায়ের বদলির দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও হিসেবে কর্মরত থাকার সময় থেকেই সুরজিৎ রায়ের সঙ্গে এক বিরোধী প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। উল্লেখ করা হয়েছে, সেই প্রার্থী বর্তমানে ভবানীপুর কেন্দ্রেও অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়াও, তুলনামূলক কম সিনিয়রিটি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়েছে, যা সাধারণত আরও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্য নির্ধারিত।
এই নিয়োগকে ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও দাবি করা হয়েছে স্মারকলিপিতে। সেখানে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ মার্চ এই বিষয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারকে তিনজন উপযুক্ত আধিকারিকের নাম পাঠাতে বলেছিল। রাজ্য সরকার দ্রুত সেই প্যানেল জমা দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধীদের দাবি, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কমিশনের আরও সক্রিয় ও স্বচ্ছ ভূমিকা প্রয়োজন, নইলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।



















