রাজ্য – বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগে রাজ্যে জমে উঠেছে সাট্টাবাজার। কোথাও যেন টিভি চ্যানেলের টক শোর মতোই চলছে আলোচনা—Suvendu Adhikari কি নন্দীগ্রামে জিতবেন? ভাঙড়ে Naushad Siddiqui বনাম Shaukat Molla লড়াইয়ের ফল কী হবে? কিংবা পানিহাটি, বরাহনগর, যাদবপুর—সবকিছু নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বাজি ধরা।
এবারের সাট্টাবাজারে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগের মতো শুধুমাত্র কে সরকার গড়বে তা নয়, বরং আসন ধরে ধরে বাজি ধরার প্রবণতাই বেড়েছে। যেসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সেগুলোতেই সবচেয়ে বেশি টাকা লাগানো হচ্ছে। এমনকি কোন প্রার্থীর জনসভায় কত ভিড় হচ্ছে, সেটাও নজরে রাখছেন বাজি ধরারা, আর সেই অনুযায়ী বদলাচ্ছে রেট।
কলকাতার বড়বাজারের সোনাপট্টি এলাকায় ভোট এলেই জমে ওঠে এই সাট্টাবাজার। বাইরে থেকে সাধারণ এলাকা মনে হলেও ভিতরে চলছে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন। যদিও এই ধরনের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বেআইনি, তবুও প্রতি নির্বাচনের আগে এখানকার তৎপরতা বেড়ে যায়। পোস্তা থেকে ঠাকুরপুকুর—শহরের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়, বরং বাজারের রেট বলছে অন্য কথা। সাট্টাবাজারের হিসাবে রাজ্যে ফের সরকার গঠনে এগিয়ে All India Trinamool Congress। এখানে এক টাকায় তৃণমূলের পক্ষে বাজি উঠছে দেড় টাকা, যেখানে Bharatiya Janata Party-র ক্ষেত্রে তা প্রায় তিন টাকা। অর্থাৎ, বাজির হিসেবে তৃণমূলকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
বিশেষ করে ভাঙড়, বরাহনগর, যাদবপুর-সহ প্রায় ৪০টি আসনকে ‘হট সিট’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বরাহনগরে Sayantika Banerjee বনাম Sajal Ghosh লড়াই নিয়েও জোর চর্চা চলছে। পাশাপাশি এসআইআরের প্রভাব কোন দলের পক্ষে যাবে, তা নিয়েও বাজি ধরছেন অনেকে।
সাট্টাবাজারের হিসাব অনুযায়ী, তৃণমূল ১৭৮ থেকে ১৮৫টি আসন পেতে পারে, আর বিজেপি পেতে পারে প্রায় ১০০টির কাছাকাছি আসন। যদিও এই রেট এখনও চূড়ান্ত নয়, ভোট যত এগোবে ততই পরিবর্তন হতে পারে।
তবে মনে রাখা জরুরি, এই সাট্টাবাজার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর কোনও সরকারি স্বীকৃতি নেই। বাস্তব ফলাফল কী হবে, তা নির্ধারণ করবে ভোটাররাই। তবুও নির্বাচন ঘিরে এই ‘বাজারের ভবিষ্যদ্বাণী’ নিয়ে চর্চা এখন তুঙ্গে।




















