রাজ্য – আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের নামের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভোটের প্রতীক। খাটিয়া, বালিশ, গ্যাস সিলিন্ডার, ঢেঁড়শ, ক্যাপসিকাম থেকে শুরু করে হাওয়াই চটি—নানান পরিচিত জিনিসই জায়গা করে নিয়েছে প্রতীকের তালিকায়। বিশেষ করে Mamata Banerjee-এর পায়ে থাকা হাওয়াই চটি নিয়েও রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি হয়েছে। এই বহুমুখী প্রতীক তালিকা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ভোটের লড়াইয়ে প্রতীক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
Election Commission of India বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য অস্বীকৃত ও নির্দল প্রার্থীদের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মোট ১৮৯টি প্রতীক অনুমোদন করেছে। ডিজিটাল যুগেও অনেক ভোটার এখনও অক্ষরজ্ঞানহীন হওয়ায়, প্রতীক দেখেই যাতে তারা পছন্দের প্রার্থীকে চিনতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা। তাই দেওয়াল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সব জায়গাতেই এখন প্রতীকের প্রচার চলছে জোরকদমে।
এই তালিকায় রয়েছে কোমরবন্ধনী, বেবি ওয়াকার, ফ্রায়িং প্যান, টিফিন বক্স, নুডলসের বাটি, ফোন চার্জার, কাঁচি, মোজা, প্যান্ট, টিউবলাইট, মানিব্যাগ, এমনকি দাঁতের মাজনের মতো দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসও। যদিও ‘লেডি পার্স’-এর মতো কিছু প্রতীক থাকলেও তা সব রাজ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়—কমিশনের কিছু নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। বর্তমানে দেশে ৭টি জাতীয় ও ৬৪টি আঞ্চলিক দলের নির্দিষ্ট প্রতীক সংরক্ষিত রয়েছে, ফলে একই প্রতীক ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন দল ব্যবহার করতে পারে।
অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রেও প্রতীক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর প্রার্থী শোভা মাহাতো জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ‘টর্চ’ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন। তবে স্বীকৃত দল না হওয়ায় ভবিষ্যতে এই প্রতীক পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমেও প্রতীক নির্ধারণ হতে পারে। অন্যদিকে ঝাড়খন্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চা ‘কাঁচি’ প্রতীক দাবি করেছে। আবার নির্দল প্রার্থী পিন্টু বাউরি জানিয়েছেন, তিনি এমন প্রতীক চাইবেন যা তাঁর কাজ ও আন্দোলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভারতে প্রতীকের এই প্রথার ইতিহাসও বেশ পুরনো। স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে প্রথম লোকসভা নির্বাচনের সময় দেশে স্বাক্ষরতার হার কম থাকায় মাত্র ১৪টি প্রতীক অনুমোদন করা হয়েছিল। তখন নির্বাচন কমিশনের কর্তা এম. এস. শেঠি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত নানা জিনিসের স্কেচ তৈরি করেন—যার মধ্যে ছিল বেলচা, কোদাল, ফুল, পাতা, সূর্য ইত্যাদি। সেই সময়ের অনেক প্রতীকই আজও নির্দল প্রার্থীদের জন্য ব্যবহার করা হয়।
সব মিলিয়ে, ভোটের ময়দানে প্রতীক শুধু একটি চিহ্ন নয়—এটি হয়ে উঠেছে পরিচিতি, বার্তা ও রাজনৈতিক কৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।



















