কলকাতা
কলকাতাকে ফের পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী কেন্দ্র ও রাজ্য। কলকাতা থেকে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সোমবার নবান্নে কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে চারটি নতুন বিমানবন্দর বা সিভিল এনক্লেভ গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে হাসিমারা, কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট এবং পুরুলিয়ার ছররা। প্রকল্পগুলি আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটন, শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও গতি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর মধ্যে কলাইকুন্ডায় ইতিমধ্যেই প্রায় ২৭০০ মিটারের রানওয়ে রয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই রানওয়েতে বোয়িং ৭৩৭ এবং এয়ারবাস এ৩২০-এর মতো ন্যারোবডি বিমান পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। হাসিমারাতেও বিদ্যমান পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সিভিল এনক্লেভ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বালুরঘাটেও এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার জমি রয়েছে। সেখানকার বিদ্যমান এয়ারস্ট্রিপ সম্প্রসারণ করে বিমান পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পুরুলিয়ার ছররায় নতুন করে বিমানবন্দর পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুধু রাজ্যের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ নয়, কলকাতার আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বাড়ানোর উপরও বিশেষ জোর দিয়েছে কেন্দ্র। কলকাতা থেকে ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি বিমান চালুর জন্য বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কলকাতার ঐতিহাসিকভাবে পূর্ব ভারতের বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে থাকা অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি কলকাতার উপর বিমান পরিষেবার চাপ কমাতে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। নদিয়ার কল্যাণীতে প্রায় ২ হাজার একর জমির উপর গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির প্রস্তাব নিয়ে জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রের সংশোধিত উড়ান প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের চারটি প্রকল্প সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। ফলে আগামী দিনে কলকাতার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের সঙ্গে বিমান যোগাযোগের পরিধি কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর।




















