কলকাতা: দুর্গাপুজোর ছুটিতেও পুরোপুরি বন্ধ থাকবে না কলকাতা হাই কোর্ট। ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী পর্যন্ত তো বটেই, নবমী বাদ দিয়ে পুজোর বাকি দিনগুলিতেও আদালত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। আদালত সূত্রে খবর, প্রতিদিনই নির্দিষ্ট বিচারপতি উপস্থিত থাকবেন এবং জরুরি মামলার শুনানি হবে। এমনকি শনি ও রবিবারও এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর সময় দীর্ঘ ছুটির কারণে জরুরি মামলার শুনানি আটকে যাওয়া এবং মামলাকারীদের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এত দিন পুজোর সময় টানা আদালত বন্ধ থাকায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানির প্রয়োজন থাকা মামলাগুলিও অপেক্ষায় পড়ে থাকত। এ বার সেই সমস্যা কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই চার দফায় বিশেষ ভ্যাকেশন বেঞ্চ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নাম জানিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
এদিকে, পুজোর ছুটির মধ্যে ১৬ ও ১৯ তারিখ ভ্যাকেশন বেঞ্চ রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল বার অ্যাসোসিয়েশন। ওই দুই দিন বাদ দেওয়ার আবেদন জানানো হলেও, বিশেষ বেঞ্চ গঠনের আর্জি বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবমী বাদে পুজোর অন্যান্য দিনেও জরুরি মামলার শুনানির সুযোগ থাকছে।
মামলা করার প্রক্রিয়াতেও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ই-মেল মারফত জরুরি মামলার আর্জি জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ। সেই আর্জি খতিয়ে দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী শুনানির সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারপতিরা। ফলে পুজোর ছুটির মধ্যেও জরুরি আইনি প্রতিকারের সুযোগ পাবেন মামলাকারীরা।
তবে আদালত খোলা রাখার এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে কর্মীদের একাংশের মধ্যে। পুজোর চার দিনেও ছুটি না মেলায় সমস্যার মুখে পড়ছেন কোর্ট অফিসার ও কর্মীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই একাধিক কর্মচারী সংগঠন প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছে। আদালত চালু রাখার সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের সুবিধা হলেও কর্মীদের ছুটির বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, পুজোর সময় কলকাতা হাই কোর্টকে পুরোপুরি বন্ধ না রাখার এই সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন। জরুরি মামলার শুনানি চালু রাখার মাধ্যমে মামলাকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে আদালতের এই বিশেষ ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে আইনজীবী মহল ও সাধারণ মানুষের।




















