
ম্যাঞ্চেস্টার, সাদামটন— কত পার্থক্য! দিন ছয়েক আগে টিকিটের হাহাকার, কালোবাজারি— দুইয়েরই সাক্ষী হয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার। কিন্তু সপ্তাহ পেরনোর আগে ছবিটা এক্কেবারে উল্টো।
সাদামটনে ভারত–আফগানিস্তান ম্যাচের টিকিটের চাহিদা তো নেই–ই। উল্টে অনলাইনে টিকিট বেচে দেওয়ার জন্য বসে আছেন অনেকেই। যে দামে টিকিট কেটেছেন, তার থেকে কম দামে বিক্রি করতেও আপত্তি নেই তাঁদের। কিন্তু কেউ নিলে তো!
লন্ডন থেকে বাসে সাদামটনে পৌঁছতে লাগে ঘণ্টা দুই। গাড়িতে এলে আরও কম। উইকএন্ডে বিরাটরা খেলবেন। ভারতীয় সমর্থকরা মাঠে ভিড় করবেন এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান বলেই সবাই ধরে নিয়েছেন বিরাটরা হাসতে হাসতে জিতবেন। গুলবাদিন নাইবের দলের ওপর কোনওরকম ভরসা নেই কারও। তাঁদের দেশীয় সমর্থকদেরও নেই। ব্যতিক্রম খলিল। এক আফগান সমর্থক। যিনি সাদামটনে পৌঁছেছেন নিজের দলের হয়ে গলা ফাটাতে। লন্ডনে হাজার পনেরো আফগান থাকেন। তাঁদের সবাই শনিবার মাঠে ভিড় করবেন, একথা অবশ্য হলফ করে বলা যাচ্ছে না। কারণ আফগানিস্তান দলের বিবাদ চরমে পৌঁছেছে। শিবির তিন ভাগে বিভক্ত। কোচের পক্ষে কয়েকজন। অধিনায়কের পক্ষে কয়েকজন। রশিদদের পক্ষে আরও কয়েকজন। ময়দানের দুই প্রধানে যেমন অনেকবারই দেখা গেছে, কোচ–ফুটবলারদের ঝামেলা। ঠিক সেরকমই ছবি এই মুহূর্তে আফগানিস্তান ক্রিকেট দলে। হরভজন সিং তো আবার এই আফগানিস্তান দলের সঙ্গে গ্রেগ চ্যাপেলের আমলের ভারতীয় দলের মিল পাচ্ছেন!
ড্রেসিংরুমের এই আবহেই স্পষ্ট আফগানিস্তানের প্লেয়ারদের মনোভাব। জেতার খিদে উধাও। দলাদলিটাই মুখ্য। ঘর সামলাবেন নাকি খেলবেন, নাইবরা আপাতত সে ধন্ধে। বিরাট কোহলিরা কোনও ধন্ধে নেই। তাঁরা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে।
আইসিসি চাইছে বাচ্চাদের সঙ্গে তারকাদের কথা বলার সুযোগ করে দিতে। সেই মতো বৃহস্পতিবার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হার্দিক, কে এল রাহুল, বিজয় শঙ্করের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল বাচ্চাদের। টেকনিক্যাল পার্ট নিয়ে টুকটাক পরামর্শ দিয়েছেন হার্দিকরা। খুদে শিক্ষার্থীদের দেখে দূরে থাকতে পারেননি বিরাট। ছোটদের সঙ্গে কথা বলে খুব খুশি ভারত অধিনায়ক।
শনিবারই ম্যাচ। বিরাটদের দেখে সত্যিই বোঝা যাচ্ছে না। তার চেয়েও বেশি বোঝা যাচ্ছে না ক্রিকেট সমর্থকদের দেখে। বিশ্বকাপ সত্যিই চলছে তো?



















