
নিজস্ব সংবাদদাতা,মালদা,২২ শে জুন :দুর্নীতির অভিযোগ পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। MGNREGA প্রকল্পের অধীনে ১০০ দিনের কাজে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে।অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যদের অনুমতি ছাড়াই ভুয়ো নথি পেস করে এই দুর্নীতি চালিয়েছে প্রধান বলেই অভিযোগ।তৃণমূলেরই নেতা কর্মীরাই দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।ঘটনা মালদার মানিকচক ব্লকের অন্তর্গত তৃণমূল পরিচালিত গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের।প্রধান সিমা বিবি বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ইতিমধ্যে মানিকচক ব্লক প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে।
১০ টি সদস্য সংখ্যা বিশিষ্ট গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত।গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ও কংগ্রেস পাঁচটি করে আসন পাই।পরে কংগ্রেস সদস্যদের সমর্থন নিয়ে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল।প্রধান হন তৃণমূল সদস্যা সিমা বিবি।স্থানীয় বাসিন্দা সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ,এই প্রধান পদ পাওয়ার পর থেকেই অন্য কোনো সদস্যদের তোয়াক্কা করেননা।সদস্যদের না জানিয়েই গোপনে পঞ্চায়েতে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।সম্প্রতি এই দুর্নীতির সীমা ছাড়িয়ে।MGNREGA প্রকল্পের অধীনে ১০০ দিনের কাজে পঞ্চায়েত কর্মীদের নিয়ে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।খাতা কলমে কাজ চলছে তিনটি স্কিমের।পঞ্চায়েত এলাকার কবরস্থান উন্নয়ন,ক্যানেল রিপিয়ারিং কাজে যুক্ত ভুয়ো হাজার হাজার শ্রমিক সংখ্যা দেখিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি অর্থ তছরূপ কার্য চালাচ্ছে প্রধান বলে অভিযোগ।যদিও কাগজ কলমে যে সমস্ত কাজ চললেও তা বাস্তবে দেখা নেই বলে এমনটা অভিযোগ।যে সমস্ত মানুষ ভিনরাজ্যে কাজ করছে তাদের নামে শ্রমিকের মজুরির টাকা মাস্টার রোল করছে।সঠিক তদন্তের দাবি তিলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রীতি ভুয়ো নথি দেখিয়ে এই আর্থিক দুর্নীতির ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা সহ তৃণমূল কর্মীরা জানতে পেরে প্রধানের বিরুদ্ধে সরব হন।প্রধানের বিরুদ্ধে ব্লক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ পত্র জমা দেন।অভিযোগ পেয়েই তড়িঘড়ি তদন্ত শুরু করেছে ব্লক প্রশাসন।যদিও এই দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান সিমা বিবিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরিষ্কার করে কিছুই বলতে চাননি।যদিও তিনি জানান,আমি কোনো অভিযোগ দেখিনি।যে অভিযোগ করছে তা ঠিক নয়।শ্রমিক লাগিয়েই কাজ করানো হচ্ছে।যারা অভিযোগ করেছে তারাও তৃণমূলেরই।এর বেশি তিনি কিছুই জানাতে চাননি।
স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শেখ সাইফুদ্দিন জানান,ক্যানেল বর্তমানে জলে ভর্তি।কাজ নেই কিছুই,তবু কাজ হচ্ছে বলে সরকারি টাকা তছরূপ চালাচ্ছে প্রধান।মাস্টার রোল হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না।কেবলমাত্র টাকা তছরূপ করে চলেছে।দালাল চক্র চলছে গোপালপুর পঞ্চায়েত জুড়ে।প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি টাকার এই শুধু খাতা কলমেই কাজ।অনেক টাকাও ইতিমধ্যে উঠেগেছে।প্রধান সহ নির্মাণ সহায়ক যুক্ত রয়েছে এই দুর্নীতিতে।বর্তমানে তৃণমূলের প্রধান কংগ্রেস সদস্যদের সাথে নিয়ে চলছে।চুরি করার জন্যই প্রধান কংগ্রেসের হয়ে কাজ করছে।আমরা চাই সরকারি সম্পত্তি যারা তছরূপ করছে তাদের যেনো উপযুক্ত শাস্তি হোক।
মানিকচক বিডিও সুরজিৎ পন্ডিতের নির্দেশে এদিন পঞ্চায়েতে যান ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধি দল।অভিযোগ অনুযায়ী কাজের স্থান পরিদর্শন সহ পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত কর্মীদের সাথে কথা বলেন ব্লক প্রতিনিধিরা।
এপ্রসঙ্গে ব্লক টেকনিক্যাল অফিসার রজত চৌধুরী জানান,একটি অভিযোগ গোপালপুর পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে জমা পড়েছে।তিনটি স্কিমের ওপরেই অভিযোগ।তাই আমরা বিডিও সাহেবের নির্দেশেই পঞ্চায়েতে এসেছি।মূলত অভিযোগ কাজে যে শ্রমিক কাগজ কলমে দেখানো হচ্ছে তা বাস্তবে নেই বলে অভিযোগ।বাস্তবে কিছু ক্যানেলের কাজের মাস্টার রোল জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত বেরিয়ে রয়েছে আমরা দেখেছি।বর্তমানে ক্যানেল গুলিতে জলে ভর্তি তাতে কাজ করা সম্ভব নয়।খতিয়ে দেখতে বেরিয়ে আসলো ফিল্ড শ্রমিকদের সাথে মাস্টার রোলের শ্রমিকদের নামের কোনো মিল নেই।আপাতত আমরা নথি পত্র নিচ্ছি তারপর রিপোর্ট জমা দেবো বিডিও এর কাছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতি রুখতে করা নির্দেশ জানিয়েছেন।তারই মাঝে তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে এমন দুর্নীতি অভিযোগ।প্রশাসনের তরফে কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তাই এখন দেখার।



















