
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর,২৩ শে সেপ্টেম্বরঃ পদ্মের অভাবে রামচন্দ্রের অকালবোধনের পুজোও একসময় অসমাপ্ত হতে বসেছিল। নিজের চোখ দিয়েই তখন পুজো করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে মহাষ্টমীর সন্ধিপুজোয় আর কিছু থাক বা না থাক, ১০৮ টি পদ্ম চাই-ই। আর মহাপূজার মহালগ্নে সারা রাজ্যে,অন্য রাজ্যে মিলে আনুমানিক ৮০ লক্ষ পদ্ম লাগে, যার তার দুই তৃতীয়াংশ জোগান দেয় পূর্ব মেদিনীপুর।

পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, কেশবপুর, হাকোলা থেকে যাওয়া পদ্মফুলে অভিষিক্তা হন মা দুর্গা। সেই কারণেই পদ্মফুল চাষিদের এখন নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। ঝিলে ঝিলে পদ্মকুঁড়ি তোলাতে ব্যস্ত তাঁরা। হিমঘরে সংরক্ষণ করে, পরে পুজোর আগেই কোলাঘাট হয়ে পদ্ম চলে যাবে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়।
কোলাঘাট পেরলেই রেললাইনের দু’ধারের ঝিলে দেখা যায়, পদ্ম চাষ হচ্ছে। আশ্বিনের পুজোর জন্য চৈত্র-বৈশাখ মাস থেকেই বীজ পোঁতা হয় পদ্মের। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ফুল ফোটা শুরু হয়ে যায়। এক বিঘার একটি ঝিলে একদিন অন্তর পদ্ম পাওয়া যায় প্রায় ২০০-৩০০ টি। এই সময় পদ্মের দাম প্রতি শয়ে ৪০০-৫০০ টাকা হলেও, পুজোর সময় তা হয়ে যায় ১৫০০-২০০০ টাকা। ক্ষুদ্র চাষিরা প্রতিদিন মহাজনকে পদ্ম বিক্রি করে দেন। কারণ তাঁদের সংরক্ষণ করার কোনও ব্যবস্থা নেই। চাষিরা লাভের মুখ না দেখলেও মহাজনেরা পুজোর সময়ে চড়া দামে পদ্ম বিক্রি করেন।

কলকাতাতে দুর্গাপুজোর বেশিরভাগ পদ্ম আসে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১০-১২টি গ্রামের কয়েকশ বিঘা ঝিল থেকে। এবছর বেশ কিছু জায়গার ঝিলে নোনা জল ঢুকে পদ্মের ক্ষতি হয়েছে। দূষণ আর অতিবৃষ্টি,সরকারি সাহায্য না পেয়ে পদ্মচাষে অনিহায়ার ফলে ফলনও কমছে। চিন্তায় এখন চাষিরা। পদ্মের জোগান আর কতদিন দিতে পারবেন? দিন দিন বাড়ছে পুজোর সংখ্যা, বাড়ছে পদ্মের চাহিদাও। তাই বিভিন্নভাবে হওয়া ঝিলের দূষণ বন্ধ না হলে একসময় আর পাওয়া যাবে না পদ্মফুল।



















