
নিজস্ব সংবাদদাতা, কোলকাতা ,১৯ শে অক্টোবর :দশমীর দিন ভোরে পথ দুর্ঘটনায় মারাত্মক ভাবে জখম হন ব্যাঙ্গালোর এর তথ্য প্রযুক্তির কর্মী অভিষেক মণ্ডল। পুজোয় ছুটি কাটাতে বাড়িতে এসেছিলেন নিউ টাউনের বাসিন্দা অভিষেক মন্ডল।নবমীর দিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। তার কথা ছিল সল্টলেক এফডি ব্লকে বন্ধু রনি ওরফে রাহুল বসাকের বাড়িতে কাটিয়ে পরদিন বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু দশমীর দিন ভোরে রনির পরিবারের লোকজন অভিষেক এর বাবাকে ছেলের দুর্ঘটনার খবর দেয়। সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বাড়ির লোক গেলে দেখা যায় মাথায় গভীর আঘাত নিয়ে ভর্তি রয়েছেন অভিষেক। অবশেষে ১৩ অক্টোবর মারা যায় অভিষেক। বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কিন্তু বাড়ির লোকের অভিযোগ, নিছক দুর্ঘটনা নয় নেপথ্যে অন্য ঘটনা রয়েছে… গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেকের পরিবার। পুলিশ এর অবহেলার জেরে মূল অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে সেই রনি ব্যাঙ্গালোরে চলে গেছে। ফোন ও সুইচ অফ করে রেখেছে.. একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবার।

রহস্য যেখানে
১ . দশমীর দিন মানে ৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে চারটেয় ঘটনা ঘটেছিলো এফ ডি ব্লক এর কাছে অথচ এক ঘন্টা পর মাত্র দু কিলোমিটার দূরে আমরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো সাড়ে পাঁচ টা নাগাদ।
২ . দুর্ঘটনায় আঘাতের যে ধরণের আঘাত, তেমন চিহ্ন নেই অভিষেক এর শরীরে। শুধু মাথায় আঘাত আর হাত ও কনুইয়ে কালো স্পট আছে।
৩ . ইনোভা গাড়ি ধাক্কা মেরেছে অথচ শরীরে কোনো ছেচড়ে যাওয়া বা ধাক্কা লেগে কাটার বা ফ্র্যাকচার এর চিহ্ন নেই। দুটো মোবাইল চশমা হাত ঘড়ি ইন্টাক্ট।
৪ . গাড়ির ডিটেলস ঘটনার দিন পেলেও গাড়িটিকে আটক করা হলো 17 তারিখ.. ফরেনসিক ও অভিষেক এর জামা প্যান্ট পরীক্ষাও হলো ঘটনার আট দিন পর।
৫ . একমাত্র প্রতক্ষদর্শী রনির শুধু পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সে এখন ব্যাঙ্গালোর এ অফিস জয়েন করে কাজ করছে।
৬ . মৃত্যুর পরেও এখনো সেকশন বদল হয়নি শুধু বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোরই ধারা দেওয়া হয়েছে গাড়ির চালককে। লঘু ধারায় গাড়ির চালককে আদালতে তোলা হলে গতকাল গাড়ির চালকের জামিন হয়ে যায়।
অভিষেকের বাবা মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের দাবি, পুলিশ সঠিক তদন্ত করছে না। পুলিশের গাফিলতির অভযোগ করেন তিনি।



















