‘কুৎসিত’ শুনে বেড়ে ওঠা তন্বীই আজ মিস ইউনিভার্স

‘কুৎসিত’ শুনে বেড়ে ওঠা তন্বীই আজ মিস ইউনিভার্স

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

১০ ডিসেম্বর, ‘কালো জগতের আলো’, ‘কালো, তা সে যতই কালো হোক / দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ’, ‘কোলো যদি মন্দ তবে চুল পাকিলে কাঁদো কেনে’, ‘কালো কৃষ্ণ কালো কালী মায়ার জগৎ সবই খালি’, এরূপ ‘কালো’ কে বিবরণ করতে গিয়ে নানান বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের প্রতিভাকে হাতিয়ার করেছেন। কেউ কবিতা, কেউ গল্প, কেউ চিত্র, কেউ ছবি নানান মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন কালো শুধুইমাত্র গায়ের রং। তবুও মানুষ কালো গায়ের রং এর মানুষকে একটু ছোট করে দেখেন, কালো সাদার মধ্যে ভেদাভেদ গড়ে তোলেন।

গায়ের রং কালো। চুল দেখলে আর দশজন নারীর মতো মনে হয় না।ছোটবেলা থেকেই ‘কুৎসিত’ কথাটি শুনেই বড় হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জোজিবিনি তুনজি। তবে তিনি হার মানেননি।গায়ের রং যে আসল পরিচয় নয় তা তিনি প্রমান করে দেন।বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সেরার শিরোপা পেয়ে এক শ্যামাঙ্গীর গলাতেও ঝরে পড়ল সেই হতাশার গল্প।সৌন্দর্যের সংজ্ঞা-কেই পাল্টে দিয়ে ছিনিয়ে নিলেন মিস ইউনিভার্স-২০১৯ সালের খেতাব।

গায়ের রং আফ্রিকানদের মতোই কালো, চুলও ছিল একটু অন্যরকম।ফলে ছোট থেকেই নিন্দার মুখোমুখি হয়েছে বহুবার।প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও পরে এসব মন্তব্যে কান দিতেন না তুনাজি, বরঞ্চ কালো হয়েও যে গুন্ তাঁর আছে তার দ্বারাই শ্রেষ্ঠ হওয়ার জেদ চাপে।কালো হওয়া সত্ত্বেও ছিনিয়ে নিলেন বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা হওয়ার খেতাব।সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিশ্ব আসরে আসার পর তুনজি একাধিকবার তার সেই পুরোনো দিনের বঞ্চনার কথা বলেছেন।

রবিবার রাতে জয়ের পরও তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটি বিশ্বে বেড়ে উঠেছি, যেখানে আমার মতো মেয়েদের চামড়ার রং এবং চুলের কারণে বৃতিষ্ণার চোখে দেখা হয়। আমি মনে করি আজ থেকেই এই ভাবনা পাল্টানোর পথে হাঁটতে হবে’।যারা চেহারা, রং নিয়ে হতাশায় ভোগেন তাদের প্রতিও বার্তা দিলেন তিনি। অন্যের সমস্যা সমাধানের আগে নিজেকে পাল্টাতে হবে, নিজেকে ভালোবাসতে হবে, নিজেকে মেনে নিতে হবে। কারণ দেহের গঠন, রং, মানুষের পরিচয় নয়।এদিন রাতে আটলান্টায় ২০১৮ সালের মিস ইউনিভার্স ফিলিপাইনের ক্যাটরিওনা গ্রে তুনজির মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top