
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম, ১৮ জানুয়ারি, এনআরসি, সিএএ ও এনপিআর-এর প্রতিবাদে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ডাকে সিউড়ির ঈদগাহ ময়দানে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। যে জনসভায় মূল বক্তা ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্র সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তবে ‘তৃণমূলের ছেলেদের’ প্রসঙ্গও উঠে এলো তাঁর মুখে। তৃণমূলের ছেলেদের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করলেন তিনি।
তিনি বলেন, “আজ থেকে তিন দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ডেকেছিলেন। আমি নবান্নে গিয়েছিলাম। এক ঘন্টা ধরে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন সরকার সরকারের কাজ করবে। পার্টি পার্টির কাজ করবে। আপনারা ভালো কাজ করছেন, আপনার সংগঠন ভালো কাজ করছে, কাজ করুন আমার কোন আপত্তি নেই। যে সমস্ত টিএমসির ছেলেরা ট্যারা চোখে দেখছো, চোখটা ভালোভাবে দেখো। আমি তাদের বলছি। আমাকে রাজনীতি শেখাতে হবে না। মমতা ব্যানার্জির কাছে আমি ভালো কি মন্দ, আগে আয়নায় গিয়ে নিজের মুখ দেখো। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে দেখার দরকার নেই।”
বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, “একথা দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ভারতবর্ষের কোন মুখ্যমন্ত্রী এনআরসির বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। ভয় করেছিলেন তারা। তাইতো কি হবে। আমরা ধন্যবাদ জানাবো আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনিই বলেছিলেন এনআরসি হবে না।”
এরপরেই তিনি এনআরসি প্রসঙ্গে বলেন, “আপনাদেরকে সতর্ক করছি, বাড়ির যাবতীয় নথিপত্র, সে রেশন কার্ড হোক, জমির দলিল হোক, প্যান কার্ড হোক, ভোটার লিস্ট হোক, জন্মের কাগজ হোক, যাবতীয় নথির অরিজিনাল কখনো কাউকে দেবেন না। খবরদার খবরদার বলছি। মা-বোনেদের সাবধান করে দিচ্ছি, যারা আসেন নি তাদের সবাইকে বলে দেবেন। একবার যদি কাগজ দেন তাহলে আর রেহাই নেই। হাত কেটে যাবে। ওরা করছে, ওরা ভয় দেখাবে। জেরক্স করে রাখবেন, জেরক্স আর অরিজিনাল আলাদা রাখবেন।”
এনআরসি নিয়ে তিনি বলেন, “আইনজীবীরা বললেন এনআরসি কেবল আসামের জন্য। বাংলায় হয়নি, ওরা ভয় দেখাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন ‘চুনচুন কে হাম নিকালেঙ্গে।’ আর আমরা তার উত্তরে বলি, গিন গিন কর হাম হিসাব লেঙ্গে।”তবে তিনি এরপর এই নথি প্রসঙ্গে বলেন, “নিজেদের কাগজপত্র ঠিক করুন। এটাও আমাদের অনুরোধ। উড়ে উড়ে না বেরিয়ে নিজেদের কাজ আমরা গুছিয়ে নিন। তাহলে কথা বলার কেউ সুযোগ পাবে না। এখানে বলছে হিন্দু মুসমানের বিভেদ! বাংলার মানুষ পিঠের চামড়া তুলে দিবে বলে রাখলাম।”



















