নিজস্ব সংবাদদাতা ১২ মার্চ ২০২১: শুটিং ফ্লোরে ফিরেছেন ঐন্দ্রিলা। যে কিনা কিছুদিন আগে লাইভে এসে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন তার সুস্থতা কামনা করতে। হ্যাঁ এ যেন এক সাহসিনীই বটে।

১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রথম ডান কাঁধে হঠাৎ ব্যথা অনুভব করেন তিনি। ব্যথা না কমায় পেইনকিলার ও খান। তবে কোনোটাতেই কাজ দেয়নি। অবশেষে ব্যথা কমায় হাওড়ার এক নার্সিংহোমে ভর্তি হন ঐন্দ্রিলা। সেখানে চেস্ট এক্সরে করে দেখা যায় বুকে জল জমে আছে বের করতে হবে তার জন্য প্রয়োজন আরো নানা রকম টেস্ট। বুকের জল বার করতে গিয়ে টেস্ট করায় ধরা পড়ে ডান দিকে ফুসফুসের “রাইট লোবে টিউমারটি “ক্যানসারাস। ছোট থেকেই ডানপিটে মেয়ে ঐন্দ্রিলা অল্পেতে কোনদিনই ভেঙে পড়েননি। অবশেষে নিজেকে বুঝিয়েছেন। ঐন্দ্রিলার কথায় অসুখ হয়েছে চিকিৎসা করতে হবে বাঁচতে হবে এইসব কথা ভেবে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন তিনি। ঐন্দ্রিলা কে দেখতে ছুটে যান সব্যসাচী। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বন্ধুবান্ধব তার হাজারো অনুরাগী পরিবারের লোকজন সকলেই আশীর্বাদ করে পাশে থেকেছেন ঐন্দ্রিলার। দ্বিতীয়বারে ক্যান্সার ধরা পড়ায় প্রথম ২৬ তারিখ কেমো নিলাম আমি। আমার প্রতিটা কেমো চার দিন করে চলছে। একটা জিনিস বুঝলাম, আমার কাছে তো আর কোনও অপশন নেই। আমাকে ট্রিটমেন্ট করাতেই হবে। এক হয় আমি পজ়েটিভ্লি ট্রিট্মেন্ট করাতে পারি আর অন্যটা ঘ্যানঘ্যান করে ট্রিটমেন্ট করাতে পারি। আমি প্রথমটা বেছে নিয়েছি। ‘জিয়নকাঠি’র ফ্লোরে যেদিন প্রথম ঢুকলাম, টেকনিশিয়ান থেকে কলাকুশলী সবাই উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছে, কেঁদে ফেলেছিলাম। সবাই জড়িয়ে ধরে বলছে, ‘তোমাকে আমরা কত মিস করেছি জান?’ এই ছোট ছোট মুহূর্ত, ভালবাসাগুলো যে কী ম্যাটার করে বুঝেছি প্রতিটা মুহূর্তে। এই যে শুটিং করছি, সবাই এত হেল্প করছ… ছোট-ছোট সিন রাখছে যাতে আমার অসুবিধে না হয়, তাড়াতাড়ি প্যাক আপ করে দিচ্ছে। আমি কৃতজ্ঞ আমার ‘জিয়নকাঠি’ টিমের কাছে। তবে দ্বিতীয় কেমো নেওয়ার পর আর হয়তো সিরিয়াল করা হবে না চুল উঠে যাবে। সে কথা ওঁদের জানিয়ে দিয়েছি। কষ্টের পরও সে খুশি তাই কষ্ট করতেই হবে। এই ভালবাসার লড়াই এখন আপনাদের ও। হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে নিজেই কলম ধরে কথাগুলো জানিয়েছেন তিনি।

আরো পড়ুন…হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়



















