টেলিভিশনের ইতিহাসে প্রথমবার দুর্গা রূপে রূপান্তরিত নারী। আজ মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান আর দেবী পক্ষের শুরু। এইদিন ভোর হতেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর শোনার রীতি বাঙালির যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তবে শুধু রেডিও না টেলিভিশনের পর্দায়, মহালয়া দেখার উৎসাহ কম থাকে না। আগে শুধু দূরদর্শনে সম্প্রচারিত হলেও, বর্তমানে প্রথম সারির চ্যানেলগুলিতে দেখা যায় মহালয়া।
সেই সঙ্গে কে সাজবেন দেবী দুর্গা রূপে, এই নিয়ে থাকে কৌতূহল। তবে সবচেয়ে বড় চমক কিংবা বলা ভাল দৃষ্টান্ত স্থাপন হচ্ছে এই বছর। এ বছর সোনার বাংলা চ্যানেলে দেবী রূপে দেখা যাবে বিশিষ্ট শিল্পী চারুলতা প্রামানিককে। প্রথমবার টেলিভিশনের পর্দায় কোনও রূপান্তরিত নারী দেবীর ভূমিকায় অবতীর্ন হবেন।
চারুলতা জানান,”অচলায়তন ভেঙে একটি দৃষ্টান্ত তৈরী করল এই মহালয়া। পরিচালক ও প্রোডাকশন হাউসের কাছে কৃতজ্ঞ আমি। সেই সাথে আশাবাদী যে আগামী দিনেও লিঙ্গ,বর্ণ,জাতি,ধর্ম এসবের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রতিভার মূল্যায়ন করে বিভিন্ন চ্যানেল এগিয়ে আসবেন রূপান্তরিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার জন্য।” চারুলতা প্রামাণিক আগে পরিচিত ছিলেন ঋতুরাজ প্রামাণিক হিসাবে।
আর ও পড়ুন মহালয়ার দিন তর্পণ করার রীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ রীতি, কি সেই রীতি
বহু দিন ধরে পুরুষ শরীরে, নারী গুমরে মরেছে। অবশেষে পরিবারের সহযোগিতায় তিনি নারীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে বাচিক শিল্প, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সংগঠক হিসাবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন চারুলতা। পুরাণ মতে, ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর অমর হয়ে উঠেছিলেন। শুধুমাত্র কোনও নারীশক্তির কাছে তার পরাজয় নিশ্চিত।
অসুরদের অত্যাচারে যখন দেবতারা অতিষ্ঠ, তখন ত্রিশক্তি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর নারীশক্তির সৃষ্টি করেন। তিনিই মহামায়ারূপী দেবী দুর্গা। দেবতাদের দেওয়া অস্ত্র দিয়ে মহিষাসুরকে বধ করেন দুর্গা। এই জন্যেই বিশ্বাস করা হয় যে, এই উৎসব খারাপ শক্তির বিনাশ করে শুভশক্তির বিজয়।সমাজের চিরাচরিত প্রথা ভেঙে নতুন দিশা দেখানো যেন এক শুভ শক্তি বা চেতনার উদ্ভব। যেমন দেবীপক্ষের সূচনায় অশুভ শক্তির বিনাশ হয়, সেরকম চারুলতার দুর্গা রূপে আবির্ভাবও যেন সমাজের বহু মানুষের দিকে যোগ্য জবাব ছুঁড়ে দেওয়া।



















