চার দেশীয় ভ্যাটারেন্স খেলোয়াড়দের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মৃত বাংলাদেশের ফুটবলার হানিফ রসিদ ডাব্লু

Football.

চার দেশীয় ভ্যাটারেন্স খেলোয়াড়দের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মৃত বাংলাদেশের ফুটবলার হানিফ রসিদ ডাব্লু। ভারতে খেলতে আসা এক বাংলাদেশী ভেটারেন্স ফুটবলারের আকস্মিক মৃত্যু ঘটল। রবিবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে জলপাইগুড়ি সহ ডুয়ার্সের ক্রীড়া মহলে। মৃত ফুটবলার হানিফ রসিদ ডাব্লু। রবিবার বিকেলে গয়েরকাটায় একটি ফুটবল ম‍্যাচ চলাকালীন সময়ে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন বাংলাদেশের খেলোয়াড় হানিফ রসিদ ডাব্লু।

 

হার্ট ব্লক হয়ে মাঠেই পড়ে যান তিনি। তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া‌র সময় পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। গ্রিনল্যান্ড ডুয়ার্স ভেটারেন্স ক্লাবের উদ্যোগে গয়েরকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দুদিনের এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয় রবিবার। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মোট ১২টি দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

 

রবিবার বিকেলে একটি খেলায় মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মালদা জেলার একটি ফুটবল দল। খেলা চলাকালীন হঠাৎ করে মাঠে পড়ে যান হানিফ রসিদ ডাব্লু নামে বাংলাদেশের খেলোয়াড়। সঙ্গে সঙ্গে মাঠেই তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও খেলার মাঠে কোন‌ও অ্যাম্বুলেন্সসের আয়োজন ছিল না বলে জানা যায়। তা সত্ত্বেও অসুস্থ হয়ে পড়া ওই খেলোয়ারকে খুব দ্রুততার সঙ্গে মাঠ থেকে উদ্ধার করে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। দুর্ভাগ্য‌বশত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া‌র সময় রেলগেটে আটকে পড়ে ওই গাড়ি। শেষপর্যন্ত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখন‌ও স্পষ্ট নয় বলে জানা গেছে। জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ মাহাত বলেন, ভেটারেন্স খেলোয়াড়দের নিয়ে ডুয়ার্সে একটি ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। খেলা চলাকালীন সময়ে মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়। এরপর বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করেন চিকিৎসকরা। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশের এক সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন ৫৬ বছরের হানিফ রসিদ ডাব্লু। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উত্তম বিশ্বাস বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়া ওই খেলোয়াড়‌কে আমরা খুব দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হই। পথে রেলগেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা দেরি হয়। শেষে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়। আমরা মাঠে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু কোনও কারণে অ্যাম্বুলেন্স আসেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

আরও পড়ুন – ভারত জোড়ো অভিযানের পরে এবার হাত সে হাত জোড়ো অভিযান

জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব কুমার দত্ত বলেন, আয়োজক কমিটি আমাদের থেকে খেলার কোনরকম অনুমতি না নিয়ে প্রতিযোগিতা‌র আয়োজন করেছে। অনুমতি চাইলে অবশ্যই আমরা জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা সহ যা আমাদের গাইড লাইনে রয়েছে তা জানিয়ে দিতাম। বিনা অ্যাম্বুলেন্সে খেলা পরিচালনা করা ওই সংস্থার কোনওভাবে উচিৎ হয়নি। এভাবে একজন বিদেশী খেলোয়াড় আমাদের জেলায় মারা গেল এতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।