ইজরায়েল হামাস যুদ্ধে ১১০০ প্রাণ গিয়েছে, গৃহহীন লক্ষাধিক

ইজরায়েল হামাস যুদ্ধে ১১০০ প্রাণ গিয়েছে, গৃহহীন লক্ষাধিক

শনিবার হামাস জঙ্গি গোষ্টি হঠাত করেই ইজরায়েলে হঠাৎ রকেট হামলা করে। আর সেই হামলার পর কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইনের মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিনের। ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইন মিলে মোট ১,১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার এই যুদ্ধ তৃতীয় দিনে পড়েছে। গত দুদিনে ইতিমধ্যেই যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সাক্ষী থেকে বিশ্ব। সোমবার তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা।

আরও পড়ুনঃ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শুভমন গিল নামতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রবল সংশয়

শনিবার সকালে হঠাৎ করে হামাস জঙ্গিদের থেকে গাজা স্ট্রিপ থেকে কাতারে কাতারে রকেট উড়ে এসেছ পড়ে ইজরায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে। এই হামলায় কিছু অবাক করেছে গোটা বিশ্বকে। রকেট হামলার পাশাপাশি হামাস জঙ্গিরা ইজরায়েলে ঢুকে অনেক মানুষকে হত্যা করেছে, পাশাপাশি বন্দি বানিয়ে গাজায় নিয়ে গিয়েছে। এই সব ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

 

হামাস হামলা শুরু করতেই চুপ করে বসে থাকেনি ইজরায়েল। বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর এই রাষ্ট্রের প্রধান সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেন প্যালেস্তাইনের বিরুদ্ধে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “প্যালেস্তাইনকে চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

 

হামাসের হামলার পাল্টা হিসাবে গাজা স্ট্রিপে আক্রমণ শুরু করেছে ইজরায়েল। এয়ার স্ট্রাইকের মাধ্যমে ইজরায়েলের প্রচুর বহুতল, মসজিদ, হাসপাতাল, স্থাপত্য ইতিমধ্যেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সেই সব ভিডিয়োও ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকি গাজাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইজরায়েল।

 

এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ইজরায়েলে মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে গাজায় মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। ইজরায়েলের হামলা থেকে বাঁচতে গাজা প্রচুর মানুষ ইতিমধ্যেই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। গাজায় প্রায় এক লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

প্যালেস্তাইনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে বিশ্বের অধিকাংশ শক্তিশালী দেশকে পাশে পেয়েছে ইজরায়েল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ইজরায়েলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। আমেরিকা-সহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশই এই দ্বন্দ্বে ইজরায়েলের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। আমেরিকা যুদ্ধাস্ত্রও পাঠাচ্ছে ইজরায়েলকে।

 

তবে ইজরায়েল হামলা শুরু করলেও হাসাম জঙ্গিরাও হামলা থামায়নি। রবিবারও গাজা থেকে প্রচুর রকেট হামলা চালানো হয়েছে ইজরায়েলে। সেই সব আক্রমণ রুখে দেওয়ার দাবিও করেছে ইজরায়েলি সেনা। এর মধ্যেই খবর পাওয়া গিয়েছে, ইজরায়েলের আস্কেলনে একটি হোটেলে হামাস জঙ্গিরা রকেট হামলা চালিয়েছে। হামাস জঙ্গিরা ইতিমধ্যেই দাবি করেছ, শতাধিক ইজরায়েলিকে তাঁরা বন্দি বানিয়েছে। অন্যদিকে ইজরায়েলের মধ্যে ঢুকে পড়া হামাস জঙ্গিদের খুঁজে খুঁজে নিকেশ করছে ইজরায়েলের সেনা।ইজরায়েলের সেনা হামাস জঙ্গিদের আইসিসের থেকেও নৃশংস বলে অভিহিত করেছে। হামাসের এই হামলায় ইজরায়েলে বেশ কয়েক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে আমেরিকা। হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইজরায়েলের ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিমানও পাঠাচ্ছে আমেরিকা।

 

ইজরায়েল গাজাকে ধূলিস্মাৎ করার হুমকি দিয়েছে। সে জন্য গাজায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরু হতেই ইজরায়েল থেকে চলে যেতে দেখা গিয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের। ইজরায়েলের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে দেশ ছাড়ার হিড়িকের দৃশ্য ধরা পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয়। রাশিয়া-ইউক্রেনের পর এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বের অর্থনীতিতে তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

en.wikipedia.org