উত্তর 24 পরগণা – SIR শুনানিতে ডাকা হল ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিংয়ের মা তথা ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের স্ত্রীকে। একই সঙ্গে জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের স্ত্রীকেও শুনানিতে তলব করা হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিং। তাঁর অভিযোগ, অযথা হয়রানির জন্য দায়ী BLO এবং ERO-রা। নির্বাচন কমিশনকে তিনি সরাসরি দায়ী করছেন না বলেই স্পষ্ট করেছেন।
পবন সিং বলেন, তাঁদের পরিবারের সকলের SIR ফর্ম ইতিমধ্যেই ওকে হয়ে গিয়েছে। তাঁর বাবা অর্জুন সিং, দুই বোন এবং তাঁকেও শুনানিতে ডাকা হয়নি। অথচ শুধুমাত্র তাঁর মাকেই শুনানিতে তলব করা হয়েছে, যার কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। এই ঘটনার জন্য সরাসরি BLO এবং ERO-দের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করেন তিনি।
একইসঙ্গে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। তাঁর দাবি, তাঁর স্ত্রীকে SIR শুনানিতে ডাকা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। এটি বিজেপির কারসাজি বলেই অভিযোগ করেন তিনি। ফর্ম ৭-কে ব্যবহার করে বেছে বেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্তদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। সোমনাথ শ্যামের বক্তব্য, এর জবাব সাধারণ মানুষ ভোটবাক্সেই দেবে।
দুই বিধায়কই অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের নাম করে সাধারণ ভোটারদের অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে। SIR শুনানির নামে বহু মানুষকে অকারণে ডেকে এনে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি।
এদিকে SIR সংক্রান্ত শুনানিতে হাজিরা দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। শনিবার দুপুরে তিনি পিলখানার কাছে ব্রিজ অ্যান্ড রুফ কারখানার শুনানি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হন। লক্ষ্মীরতন শুক্লা জানান, গত ৭ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে শুনানির নোটিশ পেয়েছিলেন এবং সেই অনুযায়ীই তিনি উপস্থিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর কাছ থেকে যে সমস্ত নথি চাওয়া হয়েছিল, সেগুলি তিনি জমা দিয়েছেন। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নাম না থাকায় হয়তো এই শুনানির জন্য তাঁকে ডাকা হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। তাঁর স্ত্রী ছাড়াও দাদা এবং বাবাকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তবে বাবা অসুস্থ থাকায় হাজির হতে পারেননি।
লক্ষ্মীরতন শুক্লা স্পষ্টভাবে জানান, নির্বাচন কমিশন এবং ভারতীয় সংবিধানের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাঁর মতে, SIR প্রক্রিয়া দেশের স্বার্থেই করা হচ্ছে এবং তা সঠিকভাবেই সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।



















