রাজ্য – এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার পর ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল SIR শুনানির কাজ। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ছিল শুনানির শেষ দিন। কিন্তু এখনও প্রায় ২২ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সব ভোটারের শুনানি সম্পন্ন করতে হলে সময় বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে এখনও পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরেও এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ এসে পৌঁছয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা ও কার্শিয়াংয়ের মতো একাধিক এলাকায় এখনও শুনানির কাজ অনেকটাই বাকি। যেসব জায়গায় শুনানি অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেখান থেকে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোন কোন বিধানসভা এলাকায় শুনানি বাকি রয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা জেলা শাসকদের কাছে চাওয়া হয়েছে। সেই তালিকা হাতে পাওয়ার পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট বিধানসভাগুলিতে সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানাবেন। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছে, সেখানে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন নির্ধারিত রয়েছে। সেই সময়সীমা মাথায় রেখেই এখন সমস্ত কাজ এগোনো হচ্ছে। সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিনে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে সাত লক্ষ ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। তবে শুরুতেই কাজের গতি ধীর হওয়ায় এত বিপুল সংখ্যক শুনানি বাকি রয়ে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রথমে আনম্যাপড ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, পরে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ জন ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে, ফলে এখনও প্রায় ২২ লক্ষ শুনানি বাকি। শুনানির পাশাপাশি প্রায় ৮০ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়েছে, তবে আরও প্রায় ৭২ লক্ষ তথ্য যাচাইয়ের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। তথ্য আপলোডের প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয়নি।
এদিকে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কেউ যদি ভুয়ো তথ্য জমা দেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয়বার নোটিশ পাঠানোর পরও প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজির হননি বলে জানা গিয়েছে। ফলে ওই ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। কী কারণে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নোটিশ পাঠিয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর।



















