
ঘরে-বাইরে তার অবাধ যাতায়াত। একদিকে নারী যেমন আগলে রাখে তার ঘরকন্না, তেমনই সেই নারী দরকারে হয়ে উঠেন অন্নপূর্ণা। এমনি এক ‘ অন্নপূর্ণা’- র খোঁজ মিললো কল্যাণী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যাসাগর কলোনীতে। সোনালী শর্মা, আদপে এক ছাপোষা গৃহবধূ। এতদিন ধরে আর পাঁচটা মেয়ের মতোই সামলে এসেছেন ঘরকন্না। স্বামী কৃষ্ণ শর্মা কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির কর্মী।
সংসারে অভাব বলতে, করণা পরিস্থিতিতে আর বাকি পাঁচটা সংসারের মতই ঠেলাঠেলি করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো। এই পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের সংসারের পাশাপাশি দাদু- দিদাকেও খোজ-খবর আর দায়িত্বও এতদিন ধরে কাধে তুলে নিয়েছেন সোনালী। কিন্তু এই কোভিড-১৯ এর থাবায় টোটো চালক অসুস্থ দাদুর সংসার চালাতে Toto নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়লেন সোনালী।
কল্যানী শহরের রাস্তায় প্রায়ই প্যাসেঞ্জার নিয়ে দেখা যায় এই মহিলা Toto চালককে। তবে এই Toto চালানোর হাতেখড়ি বাবার হাতে। মানে আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে বাবা শংকর সিকদারের অসুস্থতার সময়ে নিজেই বাবার টোটো চালিয়ে নিজের বাবা-মায়ের সংসার সামলেছেন। আর এবার সেই টোটো কে অবলম্বন করেই দুমুঠো অন্ন যোগাচ্ছেন কল্যাণী পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ কলোনির বাসিন্দা তিনি পেশায় টোটোচালক সুনীল শীলের সংসারে। যিনি সম্পর্কে সোনালীর দাদুও (মায়ের বাবা)।
ষাটোর্ধ্ব অভাবী সংসারে রোজগার এবং সংসার চালানোর বলতে তিনি ছাড়া আর কেউ নেই, তারই মধ্যে হাইড্রোসিল এর অপারেশন ও তার পরপরই চোখের অপারেশন হওয়ার ফলে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন সুনীল শীল। স্বাভাবিকভাবেই টোটো চালাতে অক্ষম তিনি। সেই দাদু-দিদিমার সংসারের হাল ধরতে নিজের ঘর সংসারের সমস্ত কাজকর্ম সামলে টোটো নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন সোনালী।
আর ও পড়ুন ; Babul Supriya -কে নিয়ে জল্পনা চড়িয়ে দিলেন BJP নেতা Rudranil
স্বামী, সংসার আর ঘরের কাজ যতটা সম্ভব গুছিয়ে নিয়ে যথা সময়ে পৌছে যান দাদুর বাড়ি। দাদুর কেনা টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন রোজগারের আশায়। প্রায় এক মাস হল এভাবেই টোটো চালিয়ে রোজগারের অর্থ তুলে দিচ্ছেন দাদু সুনীল শীলের হাতে। আর তাতেই চলছে দাদু-দিদার সংসার। তবে এই পথ চলা আদৌ মসৃণ নয়, পুরুষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ কটূক্তির পাশাপাশি সাথে বিভিন্ন সামাজিক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে সোনালীকে। যদিও তাতে পিছিয়ে আসতে রাজী নন সোনালী।
উল্টে বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করেই হাসিমুখে টোটো চালিয়েই পাশে দাড়িয়ে তিনি এখন একমাত্র ভরসা দাদু দিদিমার সংসারে। তবে নিজের জেদ ও আত্মবিশ্বাসেই এখন প্রতিবেশী থেকে শুরু করে টোটো চালাচ্ছে সেই স্ট্যান্ডের বাকি সমস্ত টোটো চালকদের সমীহ আদায় করে নিয়েছেন সোনালী শর্মা।



















