কলকাতা: ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। লিখিত পরীক্ষা থেকে শুরু করে মেধাতালিকা, ইন্টারভিউ এবং চূড়ান্ত প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ—নিয়োগের একাধিক ধাপ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ওবিসি সংরক্ষণ তালিকায় সংশোধনের জেরে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এসএসসির জারি করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা।
মামলাকারীদের অভিযোগ, একবার চূড়ান্ত প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশের পর নতুন করে ইন্টারভিউয়ের সুযোগ দেওয়া হলে আগে থেকেই তালিকায় থাকা প্রার্থীরা সমস্যায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে যাঁরা ওয়েটিং লিস্টে রয়েছেন, তাঁদের নিয়োগের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২৬ হাজার নিয়োগ বাতিলের পর নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষিকা-সহ শিক্ষাকর্মী নিয়োগের জন্য ২০২৫ সালের ২৯ মে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল এসএসসি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি নতুন প্রার্থীরাও আবেদন করেন।
এরপর ২০২৫ সালের ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রার্থীদের মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয় এবং যোগ্য প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট। কিন্তু ওবিসি সংরক্ষণের সংশোধিত হিসাবের ভিত্তিতে নতুন করে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করায় নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এসএসসির সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি ঘিরে এখন নজর কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। মামলাকারীদের বক্তব্য, নিয়োগ প্রক্রিয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে নিয়ম ও তালিকায় পরিবর্তন করা হলে প্রার্থীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আদালত এই বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ।




















