কলকাতা: পাহাড়ের পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত দীর্ঘ রোপওয়ে তৈরির প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার কলকাতার ‘সৌজন্য’ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গৌতম আদানির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। প্রস্তাবিত রোপওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে রুট, স্টেশন, প্রযুক্তি, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং নির্মাণের সময়সীমা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। (“sangbadpratidin.in” (https://www.sangbadpratidin.in/bengal/gautam-adani-interest-in-constructing-darjeeling-ropeway-during-meeting-with-west-bengal-cm-suvendu-adhikari/pid/1354688/?utm_source=chatgpt.com))
সূত্রের দাবি, দার্জিলিংয়ের এই সম্ভাব্য রোপওয়ে প্রকল্প নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহ রয়েছে গৌতম আদানির। দেশের অন্যতম উচ্চাভিলাষী সোনপ্রয়াগ-কেদারনাথ রোপওয়ে প্রকল্পের দায়িত্ব আদানি এন্টারপ্রাইজেসের হাতে থাকায় সেই অভিজ্ঞতাও এই প্রস্তাবকে ঘিরে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সরকারি ভাবে প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে নিয়ম মেনেই দরপত্র ডাকা হবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় আদানি গোষ্ঠী অংশ নিতে পারে।
বৃহস্পতিবার নিউটাউনে ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি পশ্চিমবঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান। বন্দর, লজিস্টিকস, বিদ্যুৎ, সড়ক, সেতু, গ্রিন সিমেন্ট এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে রোপওয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নবান্ন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সম্ভাব্য রুট নিয়ে প্রাথমিক সমীক্ষাও হয়েছে। তবে সেটি কোনও সরকারি বরাত নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হলে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট, পরিবেশ ও বন সংক্রান্ত অনুমোদন, জমির প্রয়োজনীয়তা, পাহাড়ের ভূতাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে হবে। তার পরেই দরপত্রের মাধ্যমে নির্মাণকারী সংস্থা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
প্রযুক্তিগত নকশা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় রোপওয়ের প্রকৃত যাত্রী পরিবহণ ক্ষমতাও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক ভাবনায় দিনে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। পাহাড়ের হোটেল, দোকান ও বাজারে প্রয়োজনীয় সামগ্রী রোপওয়ের মাধ্যমে পৌঁছানো গেলে সড়কপথে পণ্যবাহী গাড়ির চাপ কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের পাশাপাশি পাহাড়ের দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।




















