কলকাতা: উৎসবের মরশুম শেষ হলেই রাজ্যে পুরভোটের দামামা বাজতে পারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং—এই সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে। সম্ভাব্য প্রস্তুতি অনুযায়ী, ৬৩০১টি বুথে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। ভোটের প্রস্তুতি, ইভিএম, ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ইভিএম পাঠানোর কাজ শুরু হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথায় কত সংখ্যক ইভিএম প্রয়োজন, কত ভোটকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে। যদিও ২৫ নভেম্বরের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, কমিশন সূত্রে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহকেই সম্ভাব্য সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। প্রশাসক বসিয়ে ওই পুরসভাগুলির পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে হাওড়া পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন হয়নি। সেখানে শেষ পুরভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে এবং ২০১৮ সালে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। একইভাবে দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি দুর্গাপুর, বুনিয়াদপুর, পূজালি, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি, বালি, ধূপগুড়ি-সহ একাধিক পুরসভায়।
নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পুরসভাগুলিতে নির্বাচন করানোর বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় সাতটি পুরসভাকে ভোটের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে। কলকাতা ও হাওড়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কালিম্পং, কার্শিয়াং ও ধূপগুড়ি এবং পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া ও বালি পুরসভাতেও একসঙ্গে ভোটের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফলে পুজোর পরেই রাজ্যের পুর রাজনীতিতে নতুন করে ব্যস্ততা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




















