চোরবাগান দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, নিরপেক্ষ তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি

চোরবাগান দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, নিরপেক্ষ তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা ও হুগলি: চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রবিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে রওনা দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেলা ১২টা নাগাদ সড়কপথে পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির বীরপুর গ্রামে পৌঁছে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নাবালক সন্দীপ বেজ ও তাঁর মা টগর বেজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। স্ত্রী ও সন্তানকে হারানো সঞ্জয় বেজ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর আরামবাগের বালিয়া গ্রামে গিয়ে মৃত পিয়ালি প্রামাণিকের পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

দুই পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কর্তব্য পালন করতে এসেছি, প্রশাসনিক প্রধানের কর্তব্য পালন করতে এসেছি।” ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুনেছেন আগে? শুনেছেন কোনও সরকার ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে? আমাদের দায়িত্ব বোঝানোর দরকার নেই।” দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোকে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ বলেও উল্লেখ করেন।

দুর্ঘটনার সঙ্গে থিম পুজোর কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এরপর বৈদ্যবাটির মালি বাগানে চোরবাগান বিপর্যয়ে মৃত নার্স শ্রীপর্ণা পোদ্দারের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সফরের আগে চন্দননগর পুলিশ কর্তাদের উপস্থিতিতে পোদ্দার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা সংস্কার করা হয়। রাস্তার দু’পাশ গেরুয়া কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এর আগে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন শ্রীরামপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য, হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি এবং চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব।

চোরবাগান দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার ভূমিকা জড়িত থাকায় নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ওই দুই সংস্থাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। পরিবর্তে রাজ্য পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্যের ডিজাস্টার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও আশ্বাস দিয়েছেন, তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং বিধানসভাতেও পেশ করা হবে। উৎসবের মরশুম শেষ হলেও ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top